Geography

গুরুত্বপূর্ণ পাস্

ভারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাস

উত্তর ও পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত পাস :

মূলতঃ জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও‌ অরুনাচল প্রদেশেই ভারতবর্ষ এমনকি পৃথিবীর উচ্চতম পাস গুলো অবস্থিত। উত্তরে কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে অরুনাচল প্রদেশ পর্যন্ত অবস্থিত এই পাস গুলো হল –

জম্মু কাশ্মীর :


বানিহাল পাস পীরপাঞ্জাল রেঞ্জে অবস্থিত এই পাসটি জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। ভারতের দীর্ঘতম ‘পীরপাঞ্জাল’ রেলওয়ে টানেল(১১.২ কিমি দীর্ঘ) এখানেই অবস্থিত।

খারদুংলা পাস কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলে ১৮৩৮০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাসটি পৃথিবীর উচ্চতম মোটরগাড়ি চলাচল যোগ্য পাস। লাদাখের মুখ্য শহর লে এর সাথে নুব্রা ভ্যালির সংযোগ স্থাপন করে এই খারদুংলা পাস।

জোজিলা পাস জাঁসকার রেঞ্জে অবস্থিত এই পাস জম্মু কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের সাথে কার্গিল কে যুক্ত করেছে।

তাংলাং‌ লা‌ পাস ১৭৪৮০ ফুট উচ্চতায় এই পাস লে-মানালি জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত। যারা হিমাচল প্রদেশের মানালি শহর থেকে লাদাখের উদ্দেশ্যে যেতে চান তারা এই পাস হয়েই যেতে হয়।

চাংলা পাস  থ্রি ইডিয়টস সিনেমাতে নীল জলের প্যাংগং লেকের ছবি আমরা সবাই দেখেছি।‌ লে টাউন থেকে প্যাংগং লেক যেতে হলে এই পাস অতিক্রম করেই যেতে হবে। এর উচ্চতা ১৭৫৮৫ ফুট। এটি দ্বিতীয় উচ্চতম মোটরগাড়ি চলাচলের যোগ্য পাস।

হিমাচল প্রদেশ :




বারলা চা লা লে-মানালি হাইওয়েতে অবস্থিত এই পাসটি হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি অঞ্চলের সাথে কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এর উচ্চতা ১৬০০০ ফুট। এখানেই চেনাব বা চন্দ্রভাগা নদীর উৎসস্থল।

রোটাং পাস যারা সিমলা-কুলু-মানালি‌ বেড়াতে গেছে তারা রোটাং পাসের নাম শুনেই থাকবে। পীরপাঞ্জাল রেঞ্জে অবস্থিত এই‌ পাস হিমাচল‌ প্রদেশের কুলু ভ্যালির সঙ্গে স্পিতি ভ্যালিকে যুক্ত করেছে। এই পাসের‌ কাছেই অবস্থিত বিয়াস কুন্ড থেকে বিয়াস নদীর উৎপত্তি।‌ অত্যধিক তুষারপাতের কারণে বছরের বেশীরভাগ সময়ই এই পাস বন্ধ থাকে।

শিপ কি লা হিমাচলের কিন্নর জেলায় অবস্থিত এই পাস মূলতঃ তিব্বতের সাথে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হয়। ভারত ও তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের অন্যতম উপায় এই পাস।

লামখা গা পাস ১৭৩২০ ফুট উচ্চতার এই পাস হিমাচলের কিন্নর জেলার সাথে উত্তরাখণ্ডের হারসিল কে যুক্ত করেছে।

সিকিম :


নাথুলা পাস পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিমে অবস্থিত এই পাস প্রাচীনকালে চিন দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের কাজে ব্যবহৃত হতো। বিখ্যাত ‘সিল্ক রুট’ এই‌ পাস দিয়েই গেছে। ১৯৬২ এর ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভারত চীন সমঝোতার ফলে ২০০৬ সাল‌ থেকে এই পাস আবার খুলে দেওয়া হয়।

জেলেপ লা পাস পূর্ব সিকিমে অবস্থিত এই পাস সিকিম ও ভূটানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।‌ তাই বানিজ্যিক দিক থেকে এর গুরুত্ব রয়েছে। ভূটানের চুম্বী ভ্যালি যেতেও একমাত্র ভরসা এই পাস। এই চুম্বী ভ্যালি থেকেই তোর্সা নদীর উৎপত্তি।

অরুনাচল প্রদেশ :


বমডিলা পাস তিব্বতের রাজধানী লাসা’র সাথে সমগ্র অরুনাচল প্রদেশেকে যুক্ত করেছে এই পাস। এই পাসের নাম অনুসারেই বমডিলা শহর, যা পশ্চিম কামেং জেলার সদর।

বুমলা পাস ইন্দো-চীন সীমান্তে ১৫২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাস সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পর্যটকরা অরুনাচল প্রদেশের তাওয়াং শহর থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে এখানে যেতে পারেন।

সেলা পাস অরুনাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং‌ জেলার সাথে তাওয়াং এর সংযোগ স্থাপন করেছে এই পাস। শীতকালে অত্যধিক তুষারপাতের কারণে এই পাস বেশীরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে।

ডিফু পাস ভারত-চীন-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত এই পাস সামরিক কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত পাস :


মূলতঃ মহারাষ্ট্র,‌ গোয়া,‌ কর্নাটক আর কেরালা নিয়েই পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ব্যাপ্তি। এই পশ্চিমঘাট পর্বত ছাড়াও দক্ষিণ ভারতে আরও কিছু ছোট ছোট পর্বতশ্রেণী রয়েছে। যেমন পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাটের সংযোগস্থলে অবস্থিত নীলগিরি, তার দক্ষিনে আন্নামালাই, তারও দক্ষিনে কার্ডামম্ হিলস্ ও নাগেরকয়েল হিলস্। দক্ষিণ ভারতের পাস গুলো মোটামুটি এই পাহাড়গুলোতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু সমুদ্রতল থেকে এই পাস গুলোর উচ্চতা হিমালয়ান পাস গুলো থেকে অনেকটাই কম। দাক্ষিণাত্যের উল্লেখযোগ্য পাস গুলোর মধ্যে রয়েছে

থালঘাট পাস পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সহাদ্রি রেঞ্জে অবস্থিত এই পাস মহারাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর মুম্বাই ও‌ নাসিক কে যুক্ত করেছে।

ভোরঘাট পাস মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র খান্ডালার কাছে অবস্থিত এই পাস মুম্বাই ও পুনে শহরকে যুক্ত করেছে। অগুনতি সুড়ঙ্গ দিয়ে তৈরি এই পাহাড়ী রাস্তা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

পালঘাট গ্যাপ পশ্চিমঘাট পর্বতের একদম দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এই পাস আনাইমালাই ও‌ নীলগিরি পর্বতকে যুক্ত করেছে। দাক্ষিণাত্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ ‌শহর, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর ও কেরালার পালাক্কড় কেও যুক্ত করেছে এই‌ পাস।

 

এই নোটটি PDF ফরম্যাটে পেতে নিচের Download লিংকে ক্লিক করুন ।


Download

আরো দেখুন : 

গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় বায়ু

পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কিত কিছু তথ্য

বিভিন্ন দেশের সংসদ

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close