Telegram
Geography Notes

পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা ও তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

23 Districts of West Bengal

Rate this post

পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা ও তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বন্ধুরা আজ আমরা জেনে নেবো পশ্চিমবঙ্গের জেলাসমূহের সম্পর্কে কিছু তথ্য। বিভিন্ন জেলার সদর শহর, তাদের সংস্কৃতি, কিছু বিশেষত্ব নিয়ে আজকের এই পোস্ট।  পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা ও তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ । পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ।

দেখে নাও : পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা

পশ্চিমবঙ্গের জেলা কয়টি?

পশ্চিম বঙ্গের বর্তমান জেলার সংখ্যা (২০২২) ২৩টি। জেলা গুলি হলো –

  • ১) দার্জিলিং
  • ২) কালিম্পঙ
  • ৩) জলপাইগুড়ি
  • ৪) আলিপুরদুয়ার
  • ৫) কোচবিহার
  • ৬) উত্তর দিনাজপুর
  • ৭) দক্ষিণ দিনাজপুর
  • ৮) মালদহ
  • ৯) মুর্শিদাবাদ
  • ১০) বীরভূম
  • ১১) পশ্চিম বর্ধমান
  • ১২) পূর্ব বর্ধমান
  • ১৩) নদিয়া
  • ১৪) বাঁকুড়া
  • ১৫) পুরুলিয়া
  • ১৬) হুগলী
  • ১৭) উত্তর চব্বিশ পরগনা
  • ১৮) দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা
  • ১৯) হাওড়া
  • ২০) ঝাড়গ্রাম
  • ২১) পশ্চিম মেদিনীপুর
  • ২২) পূর্ব মেদিনীপুর
  • ২৩) কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া রইলো ।

দেখে নাও : পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় পর্বত ও তাদের অবস্থান – PDF

দার্জিলিং

দার্জিলিং নামটি তিব্বতি শব্দ “দোর্জে” থেকে এসেছে , যা হিন্দু দেবতা ইন্দ্রের বজ্রদন্ড এবং “লিং” এর অর্থ “স্থান” বা “দেশ”।

  • জেলা সদর : দার্জিলিং
  • জেলার আয়তন : ৩,১৪৯ বর্গকিমি
  • মহকুমা : দার্জিলিং, কালিম্পঙ, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি। 
  • নদ-নদী : তিস্তা, জলঢাকা, মেচি, বালাসোন, রঙ্গীত, মহানন্দা ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ১৮,৪২,০৩৪
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

কালিম্পং

“কালিম্পং ” নামটি এসেছে তিব্বতি শব্দ “কালোন” (রাজা ও মন্ত্রী) ও “পং” (সভা) থেকে যার অর্থ রাজা-মন্ত্রীদের সভা।  যদিও এ নিয়ে অনেক আলাদা মতও রয়েছে। 

  • জেলা সদর : কালিম্পং
  • জেলার আয়তন : ১,০৪৪ বর্গকিমি
  • মহকুমা : কালিম্পং
  • নদ-নদী : রেল্লি নদী, তিস্তা, জলঢাকা ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ২,৫১,৬৪২
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০১৭ সাল 

জলপাইগুড়ি

অনেকে বলেন “জলপাইগুড়ি” নামটা শিবের আর একনাম “জল্পেশ্বর” থেকে এসেছে। আবার অনেকে বলেন আগে এই অঞ্চলে অনেক জলপাই-এর গাছ থাকায় এর নাম জলপাইগুড়ি। 

  • জেলা সদর : জলপাইগুড়ি 
  • জেলার আয়তন : ৬,২২৭ বর্গকিমি
  • মহকুমা : জলপাইগুড়ি, মালবাজার, আলিপুরদুয়ার। 
  • নদ-নদী : তিস্তা, করলা, জলঢাকা ইত্যাদি। করলা নদীকে “জলপাইগুড়ির টেম্স” বলা হয়।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৩৮,৬৯,৬৭৫
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল 

আলিপুরদুয়ার

জলপাইগুড়ি জেলা থেকে এই জেলার উৎপত্তি হয়েছিল। 

  • জেলা সদর : আলিপুরদুয়ার 
  • জেলার আয়তন : ৩,৩৮৩ বর্গকিমি 
  • নদ-নদী : তোর্সা, রায়ডাক, কালজানি, সংকোশ, গদাধর ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ১৫,৪০,০০০
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০১৪ সাল 

দেখে নাও : পশ্চিমবঙ্গের সেতু সমূহ তালিকা । List Of Famous Bridges in West Bengal PDF

কোচবিহার

কোচবিহারের লোকসংগীত “ভাওয়াইয়া” ও জনপ্রিয় পালাগান “বিষহারা”।  

  • জেলা সদর : কোচবিহার  
  • জেলার আয়তন : ৩,৩৮৭ বর্গকিমি
  • মহকুমা : কোচবিহার, দিনহাটা, মাথাভাঙ্গা, মেখলিগঞ্জ, তুফানগঞ্জ।  
  • নদ-নদী : কালজানি, তোর্সা, রায়ডাক, গদাধর ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ২৮,২২,৭৮০
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৫০ সাল

উত্তর দিনাজপুর

এটি মালদহ বিভাগের একটি জেলা। রাজা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই জেলার নাম হয় দিনাজপুর যা পরে বিভক্তহয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে পরিণত হয়। 

  • জেলা সদর : রায়গঞ্জ 
  • জেলার আয়তন : ৩,১৪০ বর্গকিমি
  • মহকুমা : রায়গঞ্জ, ইসলামপুর।  
  • নদ-নদী : কুলিক, গামারি, শ্রীমতি, সুধা, মহানন্দা ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৩০,০০,৮৪৯
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৯২ সাল

দক্ষিণ দিনাজপুর

এটিও মালদা বিভাগের জেলা। দিনাজপুর ভেঙে দিনাজপুরের দক্ষিণ অংশ নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের উৎপত্তি হয়। 

  • জেলা সদর : বালুরঘাট  
  • জেলার আয়তন : ২,২১৯ বর্গকিমি
  • মহকুমা : বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর। 
  • নদ-নদী : আত্রাই, ব্রাহ্মণী, টাঙ্গন, হাড়ভাঙ্গা ইত্যাদি । 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ১৬,৭০,৯৩১
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৯২ সাল

মালদহ

এই এলাকার আদি বাসিন্দা “মলদ” গোষ্ঠীর নামানুসারে এই জেলার নাম মালদহ আবার অনেকের মতে ফরাসি শব্দ “মাল” (ধনসম্পদ) ও বাংলার “দহ” শব্দদ্বয় থেকে “মালদহ” নামটি এসেছে। 

  • জেলা সদর : ইংরেজ বাজার 
  • জেলার আয়তন : ৩,৭৩৩ বর্গকিমি
  • মহকুমা : মালদহ, চাঁচোল। 
  • নদ-নদী : মহানন্দা, পাগলা, তিলজলা, কালিন্দী ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৩৯,৯৭,৯৭০
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল

মুর্শিদাবাদ

এই জেলা মালদহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। “মুর্শিদাবাদ” নামটি এসেছে বাংলার নবাব “মুর্শিদ কুলি খান” এর নাম থেকে। 

  • জেলা সদর : বহরমপুর  
  • জেলার আয়তন : ৫,৩২৪ বর্গকিমি
  • মহকুমা : বহরমপুর, লালবাগ, কান্দি, ডোমকল, জঙ্গিপুর।  
  • নদ-নদী : গঙ্গা, ভাগীরথী, জলঙ্গী, সুতী, ময়ূরাক্ষী ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৭১,০২,৪৩০
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল

বীরভূম

বীরভূম জেলাটি বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত। এই জেলাকে “রাঙা মাটির দেশ”-ও বলা হয়। এই জেলার পশ্চিম প্রান্তে ঝোপঝাড় পরিপূর্ণ ছোটনাগপুর মালভূমি অবস্থিত। এই জেলার নামটি এসেছে “বীরভূমি” থেকে যার অর্থ বীরদের ভূমি। অনেকের মোতে আবার বাগদি রাজা বীর মল্লের নাম অনুসারে এই জেলার নাম বীরভূম। আবার সাঁওতালি ভাষায় বীর শব্দের অর্থ “বন” অর্থাৎ বীরভূমের অর্থ “বনভূমি”ও হতে পারে।

  • জেলা সদর : সিউড়ি   
  • জেলার আয়তন : ৪,৫৮৫ বর্গকিমি
  • মহকুমা : সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট।  
  • নদ-নদী : অজয়, ময়ূরাক্ষী, বক্রেশ্বর, ব্রাহ্মণী, দ্বারকা ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৩৫,০২,৩৮৭
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল

পশ্চিম বর্ধমান

এটি মূলত শিল্প প্রধান জেলা (কয়লা, ইস্পাত ইত্যাদি)। কিছু ঐতিহাসিকদের মতে ২৪তম ও শেষ জৈন্য তীর্থঙ্কর মহাবীর জৈন্য এই অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের তাগিদে অনেক থেকেছেন, তাই মহাবীর জৈন্যের আর এক নাম “বর্ধমান”-কেই এই অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে। আবার অনেকের মোতে গাঙ্গেয় ক্রমবর্ধমান অঞ্চল হওয়াই এই অঞ্চল/জেলার নাম “বর্ধমান”। 

  • জেলা সদর : আসানসোল  
  • জেলার আয়তন : ১,৬০৩ বর্গকিমি
  • মহকুমা : আসানসোল, দুর্গাপুর।  
  • নদ-নদী : অজয়, দামোদর ইত্যাদি। 
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ২৮,৮২,০৩১
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০১৭ সাল

পূর্ব বর্ধমান

এই জেলাকে পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা বলা হয় কারণ প্রচুর পরিমানে ধান উৎপাদিত হয় এই জেলায়। যদিও বর্ধমান ভেঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান হওয়ার আগে বর্ধমান জেলাকেই পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা বলা হত। 

  • জেলা সদর : বর্ধমান   
  • জেলার আয়তন : ৭,০২৪ বর্গকিমি
  • মহকুমা : কালনা, কাটোয়া, বর্ধমান।  
  • নদ-নদী : অজয়, দামোদর, ভাগীরথী ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ২৮,৮২,০৩১
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : বর্ধমান ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও বর্ধমান ভেঙে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান হয় ২০১৭ সালে। 

নদীয়া

এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি জেলা। আগে নদিয়া জেলার নামের বানান করা হত নদীয়া এবং তারও আগে সাময়িক ভাবে নদিয়া জেলার নাম ছিল নবদ্বীপ জেলা। কথায় প্রচলিত ভাগীরথী নদীর তীরে এক নতুন চরের ওপর বসে এক তান্ত্রিক প্রতিদিন ৯টি প্রদীপ বা দিয়া জ্বালিয়ে তন্ত্র সাধনা করতেন। দূর থেকে দেখে এই চরটিকে লোকে ন’দিয়ার চর বলতো। সেই থেকে নদিয়া নামটির উৎপত্তি। 

  • জেলা সদর : কৃষ্ণনগর   
  • জেলার আয়তন : ৩,৯২৭ বর্গকিমি
  • মহকুমা : কৃষ্ণনগর, কল্যাণী, রানাঘাট, তেহট্ট।  
  • নদ-নদী : হুগলী (ভাগীরথী), জলঙ্গি,বিদ্যাধারী, চূর্ণী ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৫১,৬৮,৪৮৮
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

বাঁকুড়া

বাঁকুড়া হল মেদিনীপুর বিভাগের একটি জেলা। মুন্ডা-কোলদের ভাষায় বাঁকু শব্দের অর্থ এবড়ো খেবড়ো ড়া শব্দের অর্থ বসতি, অনেকের মতে সেই থেকেই অঞ্চল/জেলার নাম হয়েছে বাঁকুড়া। আবার অনেকের মতে জেলার প্রভাবশালী এক লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরএর আর এক নাম বাঁকুড়া রায় থেকে এই জেলার নাম বাঁকুড়া হয়েছে। 

ধানের গোলা বলা হত। 

  • জেলা সদর : বাঁকুড়া   
  • জেলার আয়তন : ৬,৮৮২ বর্গকিমি
  • মহকুমা : বাঁকুড়া, খাতরা, বিষ্ণুপুর।  
  • নদ-নদী : দামোদর, দ্বারকেশ্বর ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৩৫,৯৬,২৯২
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

পুরুলিয়া

এটি মেদিনীপুর বিভাগের একটি জেলা। জেলাটি ছোটনাগপুর মালভুমি অঞ্চলের পূর্বে অবস্থিত। ছৌনাচ এখানকার বিখ্যাত লোকনৃত্য। করম পরব, টুসু, ভাদু এই জেলার বিখ্যাত উৎসব। 

  • জেলা সদর : পুরুলিয়া    
  • জেলার আয়তন : ৬,২৫৯ বর্গকিমি
  • মহকুমা : পুরুলিয়া পূর্ব, পুরুলিয়া পশ্চিম, রঘুনাথপুর।  
  • নদ-নদী : দামোদর, কংসাবতী, সুবর্ণরেখা ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ২৯,২৭,৯৬৫
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৫৬ সাল। 

হুগলী

হুগলী জেলা বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত।  অনেকের মতে বর্তমানের হুগলী নদীর তীরে অনেক হোগলা গাছ ছিল একসময়, সেই থেকেই এই জেলার নাম হুগলী। যদিও ইটা পুরোপুরি মেনে নেওয়া হয়না। এবং হুগলী নামের পেছনে আরো অনেক যুক্তি রয়েছে। বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারকেশ্বর এই জেলায় অবস্থিত। 

  • জেলা সদর : চুঁচুড়া 
  • জেলার আয়তন : ৩,১৪৯ বর্গকিমি
  • মহকুমা : চুঁচুড়া, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, আরামবাগ।  
  • নদ-নদী :  হুগলি,দামোদর, রূপনারায়ণ, জলঙ্গি, দ্বারকেশ্বর ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৫৫,২০,৩৮৯
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

দেখে নাও : পশ্চিমবঙ্গের তাপবিদ্যুৎ জলবিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র তালিকা

উত্তর চব্বিশ পরগণা

জেলাটি প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত। বাংলার নবাব মীরজাফর ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে কলকাতার দক্ষিণে কুলপি পর্যন্ত ২৪টি জংলীমহল বা ২৪টি পরগনার জমিদারি সত্ব ভোগ করার অধিকার দেয়। সেই থেকেই অঞ্চলের নাম চব্বিশ পরগনা হয়। সেই থেকে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উৎপত্তি হয় পরে। 

  • জেলা সদর : বারাসাত 
  • জেলার আয়তন : ৪,০৯৪ বর্গকিমি
  • মহকুমা : ব্যারাকপুর, বারাসাত, বসিরহাট, বনগাঁ, বিধাননগর।  
  • নদ-নদী : ইছামতি, বেতনা, যমুনা, হুগলী  ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ১,০০,২৮,৮৫২
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৮৬ সাল। 

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা

এটিও প্রেসিডেন্সি প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্গত জেলা। আয়তনের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম জেলা এটি এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম। UNESCO এর ঐতিহ্যবাহী হটস্পট সুন্দরবন এই জেলাতেই অবস্থিত। বিখ্যাত গঙ্গাসাগরের মেলা এই জেলাতেই হয়। 

  • জেলা সদর : আলিপুর   
  • জেলার আয়তন : ৯,৯৬০ বর্গকিমি
  • মহকুমা : বারুইপুর, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, আলিপুর, কাকদ্বীপ।  
  • নদ-নদী : হুগলী, বিদ্যাধরী, পিয়ালী, মাতলা, ইছামতি ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৮১,৫৩,১৭৬
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৮৬ সাল। 

হাওড়া

জেলাটি পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত। অনেকের মতে হাওড়া নামটির উৎপত্তি হাবড় থেকে যার অর্থ এমন একটি অঞ্চল জেলা পাঁক ও কাদা বেশি হয়। এই নাম নিয়েও অনেক মতান্তর আছে অর্থাৎ নানা মুনির নানা মত রয়েছে। 

  • জেলা সদর : হাওড়া
  • জেলার আয়তন : ১,৪৬৭ বর্গকিমি
  • মহকুমা : হাওড়া, উলুবেড়িয়া।  
  • নদ-নদী : হুগলী, রূপনারায়ণ, দামোদর, সরস্বতী ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৪৮,৪১,৬৩৮
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

ঝাড়গ্রাম

এই জেলাটি মেদিনীপুর বিভাগের অন্তর্গত। পশ্চিমবঙ্গের ২২তম জেলা এটি। 

  • জেলা সদর : ঝাড়গ্রাম   
  • জেলার আয়তন : ৩,০৩৭ বর্গকিমি
  • মহকুমা : ঝাড়গ্রাম  
  • নদ-নদী : কংসাবতী, সুবর্ণরেখা ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ১১,৩৬,৫৪৮
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০১৭ সাল।

পশ্চিম মেদিনীপুর

প্রখ্যাত ক্ষুদিরাম বসু ও বিদ্যাসাগরের জেলা এটি। মেদিনীপুর জেলা বিভক্ত হয়ে এই জেলার সৃষ্টি হয়েছিল। আবার এই জেলা থেকেই ঝাড়গ্রাম জেলার উৎপত্তি হয়েছিল। 

  • জেলা সদর : মেদিনীপুর 
  • জেলার আয়তন : ৯,২৯৬ বর্গকিমি
  • মহকুমা : খড়গপুর, মেদিনীপুর, ঘাটাল।  
  • নদ-নদী : কংসাবতী, শিলাবতী, কেলাঘাই ইত্যাদি।  
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৫৯,৪৩,৩০০
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০০২ সাল। 

দেখে নাও : পশ্চিমবঙ্গের কৃষি সংক্রান্ত তথ্যাবলী – PDF

পূর্ব মেদিনীপুর

পশ্চিমবঙ্গের একদম দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই জেলার দক্ষিণেই বঙ্গোপসাগর। বিখ্যাত সমুদ্রসৈকত দীঘা এই জেলাতেই অবস্থিত। 

  • জেলা সদর : তমলুক  
  • জেলার আয়তন : ৪,৭৮৫ বর্গকিমি
  • মহকুমা : তমলুক, হলদিয়া, এগরা, কাঁথি।  
  • নদ-নদী : হলদি, হুগলি, কালিন্দী, মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ ইত্যাদি।
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৫০,৯৮,২৩৮
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ২০০২ সাল।

কলকাতা

কলকাতা হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী এবং প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। এটি পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র জেলা যেখানে কোনো মহকুমা নেই। 

  • জেলা সদর : কলকাতা    
  • জেলার আয়তন : ১৮৫ বর্গকিমি
  • নদ-নদী : হুগলী নদী।   
  • জনসংখ্যা (২০১১ বিচারে) : ৪৪,৮৬,৬৭৯
  • প্রতিষ্ঠা / স্বীকৃতি : ১৯৪৭ সাল। 

To check our latest Posts - Click Here

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!
Nobel 2022 Winner List in Bengali Current Affairs in Bangla – 26th October 2022 বাংলাদেশের নব নির্মিত পদ্মা সেতু – জেনে নিন আকর্ষণীয় তথ্য