প্রতিদিন বিনামূল্যে মক টেস্ট ও বিভিন্ন ধরণের নোটস-এর জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে যুক্ত হয়ে যাও । 


All NotesNotes

ভারতীয় সংবিধানের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি – PDF

Emergency Provisions of the Indian Constitution

ভারতীয় সংবিধানের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি

প্রিয় পাঠকেরা, আজকে আমরা আলোচনা করবো ভারতীয় সংবিধানের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি (Emergency Provisions of the Indian Constitution ) নিয়ে।বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে বা জরুরি বংবস্থায় দেশের প্রশাসনিক প্রধানের হাতে কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানের ব্যবস্থা দেখা যায়। ভারতের রাষ্ট্রপতির হাতেই এরকম তিন ধরণের জরুরি অবস্থাকালীন ক্ষমতা রয়েছে। এই তিন ধরণের জরুরি অবস্থাগুলি হলো –

  • জাতীয় জরুরি অবস্থা ( National Emergency )
  • রাজ্যভিত্তিক জরুরি অবস্থা (State Emergency )
  • আর্থিক জরুরি অবস্থা (Financial Emergency )

১. জাতীয় জরুরি অবস্থা ( National Emergency )


ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারা অনুযায়ী যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোলযোগ ঘটার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জাতীয় জরুরি অবস্থা ( National Emergency ) জারি করতে পারেন।

মূল সংবিধান অনুসারে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সন্তুষ্টিই ছিল চূড়ান্ত। তাঁর এই সিধান্তের ব্যাপারে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যেত না।

জাতীয় জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী –

  • ১৯৭৫ সালে ৩৮তম সংবিধান সংশোধন অনুসারে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোলযোগের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে একাধিক জরুরি অবস্থা জারি করা যেতে পারে।
  • ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংশোধন অনুসারে রাষ্ট্রপতি সমগ্র দেশে বা দেশের কোনো নির্দিষ্ট অংশে এই ঘোষণা জারি করতে পারেন।
  • ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংশোধনের পরে জাতীয় জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের প্রস্তাবের লিখিত অনুলিপির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি –

এখনও পর্যন্ত মোট তিনবার ভারতের জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে –

  • ১৯৬২ সালে চীনের সাথে সীমান্ত নিয়ে বিরোধের সময়।
  • ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়
  • ১৯৭৫ সালে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে।

এখনো পর্যন্ত ভারতে কোথাও আংশিক জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি।

মেয়াদ –

জাতীয় জরুরি অবস্থা যথাযথভাবে অনুমোদিত হলে একবারে ছয়মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে। তারপরে প্রয়োজনে আবার সংসদের উভয়কক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে মেয়াদ ছয়মাস বাড়ানো যায়। এইভাবে ছয়মাস, ছয়মাস করে ঘোষণাটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

জরুরি অবস্থা সর্বাধিক কতদিন চালু রাখা যাবে, এ বিষয়ে ভারতীয় সংবিধানে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশ নেই।

প্রত্যাহার –

  • রাষ্ট্রপতি পৃথক ঘোষণার দ্বারা জাতীয় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করতে পারেন।
  • লোকসভা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার সম্পর্কিত কোনও প্রস্তাব পাস করলে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করতে হয়। [৩৫২(৭) ধারা ]

জাতীয় জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত কিছু অতিরিক্ত তথ্য –

  • জরুরি অবস্থায় রাজ্য-তালিকা যুগ্ম-তালিকার রূপ ধারণ করে।
  • জাতীয় জরুরি অবস্থা চলাকালীন লোকসভার মেয়াদকাল একবছর করে বাড়ানো যায়। তবে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পর এই বর্ধিত মেয়াদ ছমাসের বেশি থাকে না।
  • রাষ্ট্রপতি বিশেষ ঘোষণা-বলে মৌলিক অধিকারগুলিকে স্থগিত রাখতে পারেন। কিন্তু ৪৪তম সংশোধন অনুসারে জরুরি অবস্থায় ২০ ও ২১ ধারার জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার কোনও ভাবে রদ করা যায় না।
  • অভ্যন্তরীণ কারণে জারি করা জরুরি অবস্থায় কোনও মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা যায় না।

২. রাজ্যভিত্তিক জরুরি অবস্থা (State Emergency ) – রাষ্ট্রপতি শাসন 


কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল বা অন্য কোনো সূত্রে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে সেই রাজ্যের শাসনব্যবস্থা শাসনতন্ত্র অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে না বা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে তিনি সেই রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা (Constitutional Breakdown in the State ) ঘোষণা করতে পারেন এবং সেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারেন।

আবার ৩৬৫ নম্বর ধারা অনুসারে কোনও রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ না মানে বা মানতে ব্যর্থ হলেও রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

সংসদের অনুমোদন –

এই ধরণের অবস্থার ঘোষণার দুইমাসের মধ্যে সংসদের উভয়কক্ষে পৃথকভাবে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হয়। অনুমোদিত না হলে দুমাস পরে তা অকার্যকর হয়ে পরে।

মেয়াদ –

  • অনুমোদিত হলে এই জরুরি অবস্থা প্রথমে ছমাস এবং পরে পুনরায় অনুমোদনের মাধ্যমে আরও ছমাস অর্থাৎ মোট এক বছর সর্বাধিক বলবৎ থাকতে পারে।
  • তবে দেশে জরুরি অবস্থা থাকলে বা নির্বাচন কমিশন যদি ঘোষণা করে যে রাজ্যে নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশ নেই তবে এই ধরণের জরুরি অবস্থা এক বছরের বেশি বলবৎ করা যেতে পারে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই তিনবছরের বেশি এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ হতে পারে না।
  • পাঞ্জাবে রাষ্ট্রপতি শাসন একবছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছিল ১৯৮৪ সালে ৪৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এবং এটি শুধুমাত্র পাঞ্জাবের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অর্ধ রাষ্ট্রপতি শাসন –

কোনো রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জাতি হলে সেই রাজ্যের বিধানসভা রাষ্ট্রপতি ভেঙে দিতে পারেন আবার নাও ভাঙতে পারেন। তিনি সাময়িকভাবে বিধানসভার কাজ ও ক্ষমতা স্থগিত রাখতে পারেন। সাময়িক অস্থিরতা কাটিয়ে বিধানসভার সদস্যগণ যাতে বিকল্প একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। একেই অর্ধ রাষ্ট্রপতি শাসন (Half Emergency ) বলা হয়ে থাকে।

১৯৮১ সালে করলে এই অর্ধ রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করা হয়েছিল যেক্ষেত্রে বিধানসভা ভাঙা হয়নি।

৩. আর্থিক জরুরি অবস্থা (Financial Emergency )


রাষ্ট্রপতি যদি সন্তুষ্ট হন যে, এমন অবস্থার উদ্ভব হয়েছে যার ফলে ভারত বা ভারতের কোনো অংশে আর্থিক স্থায়িত্ব বা সুনাম ( Financial Stability or Credit ) ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাহলে তিনি শাসনতন্ত্রের ৩৬০ ধারার অধীনে আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

সংসদের অনুমোদন –

দুইমাসের মধ্যে এই ঘোষণা সংসদের উভয়কক্ষে অনুমোদিত হওয়া দরকার। তা না হলে দুমাস পরে এই ঘোষণা অকার্যকর হয়ে পরে।

মেয়াদ –

সংসদ কর্তৃক অনুমোদনের পরে এই জরুরি অবস্থা অনির্ধিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকতে পারে। রাষ্ট্রপতি একটি পৃথক ঘোষণার মাধ্যমে এটি প্রত্যাহার করতে পারেন।

এখনো পর্যন্ত ভারতে আর্থিক জরুরি অবস্থা জারি হয়নি।

আর্থিক জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত কিছু অতিরিক্ত তথ্য –

  • আর্থিক জরুরি অবস্থা চলাকালীন সকল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মচারী বা তা বিশেষ কোনো অংশের বেতন ও ভাতা হ্রাস হতে পারে।
  • এই সময় রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের বেতন ও ভাতা সাময়িকভাবে হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

সামগ্রিক মূল্যায়ন 

বহু সমালোচনা সত্ত্বেও দেশের শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি অবস্থান সম্পর্কিত বিধিব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

  • দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী অশুভ শক্তির মোকাবিলা করতে ও জাতীয় ঐক্য-সংহতি সংরক্ষণের জন্য অঙ্গরাজ্যের স্বতন্ত্র ক্ষুন্ন হলেও কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
  • দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জনগণের সর্বাধিক কল্যাণকে সুনিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
  • জরুরি অবস্থা মানেই যে মৌলিক অধিকার খর্ব বা গণতন্ত্রের অপমৃত্যু এমন কিছু নয়। জরুরি অবস্থা জারি হলেই আপনা-আপনি মৌলিক অধিকার খর্বিত হয় না। তারজন্য রাষ্ট্রপতিকে আলাদা ভাবে ঘোষণা করতে হয়।
  • বর্তমানে জনপ্রতিনিধিদের অনুমতি ছাড়া জরুরি অবস্থা চালু রাখা যায় না।

Download Section :

File Name :
File Size :
Format : PDF
No. of Pages : 04

Click Here to Download PDF

আরও দেখে নাও :

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker