প্রতিদিন বিনামূল্যে মক টেস্ট ও বিভিন্ন ধরণের নোটস-এর জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে যুক্ত হয়ে যাও । 


All NotesNotes

ভারতের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী তালিকা – PDF

List of Important Amendments of the Constitution of India in Bengali

ভারতের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী

প্রিয় পাঠেকরা, আজকে আমরা আলোচনা করবো ভারতের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী তালিকা (List of Important Amendments of the Constitution of India in Bengali ) নিয়ে। যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরোক্ষাগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক হলো এই ভারতের সংবিধান সংশোধনের তালিকাগুলি। পরীক্ষকদের অত্যন্ত পছন্দের একটি টপিক এবং প্রায়শই ভারতের সংবিধান সংশোধনী থেকে একাধিক প্রশ্ন পরীক্ষায় এসে থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করলাম গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনীগুলি তোমাদের সামনে উপস্থাপনা করতে।এখনো পর্যন্ত ভারতীয় সংবিধানে মোট ১০৪ টি সংশোধন করা হয়েছে।

Last Updated on 26.03.2021

আরও দেখে নাও :


ভারতের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী তালিকা

প্রথম সংবিধান সংশোধনী (জুন ১৯৫১ )

  • ১৫(8) নং ধারা যুক্ত করা হয়েছিল
  • ১৯(২) এবং ১৯(৬) নং ধারা সংশােধন করা হয়েছিল
  • ৩১ নং সংশােধন ধারার পর ৩১(খ) নামক দুটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছিল
  • ৮৫ নং ধারার পরিবর্তে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছিল
  •  ৮৭(১,২) নং ধারার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল
  • ১৭৪ নং ধারার পরিবর্তে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছিল
  •  ১৭৬ (১,২) নং ধারা পুনর্বিন্যস্ত হয়েছিল
  • ৩৪১(১), ৩৪২(১), ৩৭২ [১(ক)] এবং ৩৭৬(১) নং ধারার পরিবর্তন করা হয়েছিল
  • সংবিধানে নবম তফসিল যােগ করা হয়েছিল

তৃতীয় সংবিধান সংশোধনী (১৯৫৪ ) সপ্তম তফসিলের সংশােধনের মাধ্যমে রাজ্য, কেন্দ্র এবং যুগ্ম তালিকার সংশােধন করা হয়। রাজ্য এবং যুগ্ম তালিকার কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্রীয় তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অষ্টম সংবিধান সংশোধনী (জানুয়ারি, ১৯৫৯ ) মূল সংবিধানের ৩৩৪ নং ধারায় সংবিধান কার্যকরি হওয়ার পর ১০ বছর পর্যন্ত লােকসভা এবং রাজ্য বিধাসভায় তফসিলি জাতি, উপজাতি সম্প্রদায় ও ইঙ্গ-ভারতীয় সমাজের জন্য আসন সংরক্ষণের মেয়াদ ১৯৬০ সাল থেকে বৃদ্ধি করে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত করা হয়েছিল।

নবম সংবিধান সংশোধনী (ডিসেম্বর, ১৯৬০ ) সংবিধানের প্রথম তফসিলের পরিবর্তন করা হয়। ১৯৫৮ সালের ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ি অঞ্চল পাকিস্তানকে হস্তান্তর করার জন্য এই সংশােধন করা হয়েছিল।

দশম সংবিধান সংশোধনী (অগাস্ট , ১৯৬১ ) পর্তুগীজ অধিকৃত দাদরা ও নগর হাভেলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়।

দ্বাদশ সংবিধান সংশোধনী (ডিসেম্বর , ১৯৬১ ) ২৪০ নং ধারা এবং প্রথম তফসিল সংশােধন করে পর্তুগীজ অধিকৃত গােয়া, দমন এবং দিউকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়।

১৪তম সংবিধান সংশোধনী (ডিসেম্বর , ১৯৬২ )  ফরাসি অধিকৃত পণ্ডিচেরিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়। ৮১ নং ধারা সংশােধন করে ৮১(১) নং ধারা যুক্ত করা হয় এবং ওই ধারা অনুযায়ী লােকসভায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধির সংখ্যা ২০-র পরিবর্তে ২৫ করা হয়।

১৫তম সংবিধান সংশোধনী (অক্টোবর , ১৯৬৩) ১৯৬৩ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশােধনের মাধ্যমে ১২৪, ১২৮, ২১৭, ২২২, ৩১১ এবং ৩১৬ নং ধারা সংশােধন করা হয়। তা ছাড়া সংবিধানের সপ্তম তফসিলের কেন্দ্রীয় তালিকার ৭৮নং বিষয়টিও সংশােধন করা হয়েছিল। এই সংশােধনের উদ্দেশ্য ছিল হাইকোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ থেকে ৬২ বছর করা, হাইকোর্টের এক্তিয়ার সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্র-কৃত্যকের সদস্যগণের পদচ্যুতির পদ্ধতির
সংশােধন।

১৮তম সংবিধান সংশোধনী (আগস্ট ,১৯৬৬ ) সংবিধানের ৩ নং ধারার পরিবর্তন করা হয়। বলা হয়, ভারতীয় পার্লামেন্ট নতুন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করতে ও তাদের নাম, সীমানা প্রভৃতির পরিবর্তন এককভাবে করতে পারবে। ফলস্বরূপ ‘পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য দুটি গঠন করা হয়। পাঞ্জাব রাজ্যটি ভাষার ভিত্তিতে গড়ে তােলা হয়।

২০তম সংবিধান সংশোধনী (ডিসেম্বর ,১৯৬৬ ) ➟  সংবিধানে ২৩৩(এ) নং ধারাটি যুক্ত করা হয়। জেলা জজদের নিয়ােগ সম্পর্কিত আইনকে বৈধ করা হয় যা পূর্বে আদালত কর্তৃক অবৈধ বলে ঘােষিত হয়েছিল।

২১তম সংবিধান সংশোধনী (এপ্রিল, ১৯৬৭ ) এই সংশােধনের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালে সিন্ধ্রি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২৬তম সংবিধান সংশোধনী (ডিসেম্বর, ১৯৭১ ) ২৬তম সংবিধান সংশােধনের মাধ্যমে প্রাক্তন দেশীয় রাজ্যের শাসকদের রাজন্যভাতা বিলােপ করা হয়। এর জন্য ২৯১ ও ৩৬২ নং ধারা বাতিল এবং ৩৬৩(ক) নং ধারা সংযােজন করা হয়।

২৮তম সংবিধান সংশোধনী (আগস্ট, ১৯৭২ ) এই সংশােধনের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নিযুক্ত কর্মচারীদের বিশেষ সুযােগ সুবিধার অবসান ঘটানাে হয়। সংসদের হাতে তাদের চাকুরির শর্তাদি নতুন করে নির্ধারণের ক্ষমতা ন্যাস্ত করা হয়। এইজন্য ৩১৪ নং ধারা বাতিল এবং ৩১২(ক) নং ধারা যুক্ত করা হয়েছিল।

৩১তম সংবিধান সংশোধনী (অক্টোবর, ১৯৭৩ ) এই সংশােধনের মাধ্যমে ৮০ ও ৩৩০ নং ধারা সংশােধিত হয়। এর মাধ্যমে লােকসভার সদস্যসংখ্যা ৫২৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৫৪৫ করা হয়।

৩৬তম সংবিধান সংশোধনী (এপ্রিল, ১৯৭৫ ) ১৯৭৫ এই সংশােধনের মাধ্যমে সিকিমকে ভারতের ২২তম অঙ্গরাজ্য হিসাবে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়।

৩৭তম সংবিধান সংশোধনী (মে, ১৯৭৫ ) এই সংবিধান সংশােধনের মাধ্যমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অরুণাচল প্রদেশের জন্য একটি বিধাসভা ও মন্ত্রীপরিষদ গঠন সংশােধন করা হয়। সেই সঙ্গে ২৩৯ (এ) ও ২৪০ নং ধারা দুটি যুক্ত করা হয়।

৩৯তম সংবিধান সংশোধনী (আগস্ট, ১৯৭৫ )  এই সংশােধন অনুসারে ৩৮টি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় আইনকে নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। উপরন্তু, রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লােকসভার অধ্যক্ষের নির্বাচন সংক্রান্ত বিরােধের নিষ্পত্তির দায়িত্ব হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের হাত থেকে প্রত্যাহার এবং একটি কাউন্সিলের হাতে অর্পণ করা হয়।

৪১তম সংবিধান সংশোধনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ ) ৩১৬(২) নং ধারা সংশােধন করে রাজ্য-রাষ্ট্র-কৃত্যকের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ থেকে সংশােধন ৬২ বছর করা হয়।

৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬ )

  • এই সংবিধান সংশোধনটিকে ভারতিয় সংবিধানের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা হয়ে থাকে ।
  • ৪২তম সংশােধনে প্রস্তাবনার সঙ্গে ‘সমাজতান্ত্রিক’ এবং ধর্ম-নিরপেক্ষ’ শব্দদ্বয় যুক্ত করে ভারতকে একটি সার্বভৌম,
    সমাজতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘােষণা করা হয়। তা ছাড়া ‘ঐক্যের পর ‘সংহতি’ শব্দটি সংযােজন করা হয়েছিল।
  • ৩১-গ নং ধারা সংশােধন করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দেশমূলক নীতিকে কার্যকর করার জন্য প্রণীত কোনাে আইনকে ১৪, ১৯ এবং ৩১ নং ধারা লঙ্ঘন করার অজুহাতে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘােষণা করা যাবে না।
  • মূল সংবিধানে নাগরিকদের কর্তব্য সম্পর্কে কোনাে উল্লেখ ছিল না। ৪২তম সংশােধনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের দশটি কর্তব্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর জন্য ৪-ক নামক একটি নতুন অংশ সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছে। ( দেখে নাও সংবিধানের উল্লিখিত মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য – মৌলিক কর্তব্য | Fundamental Duties
  • ৪২তম সংশােধনে লােকসভা এবং রাজ্যসভার কার্যকাল ছয়বছর করা হয়েছে।
  • ৪২তম সংশােধনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদালত কোনাে সংবিধান সংশােধন আইনের বৈধতা বিচার করতে পারবে না। সংবিধান সংশােধনের ক্ষেত্রে সংবিধান নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, আদালত কেবল সেই বিষয়টিই বিবেচনা করতে পারবে।
  • সংসদ ও রাজ্য আইনসভার ‘কোরাম সম্পর্কেও এই সংশােধনে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • ৪২তম সংশােধনে সংযােজন করা হয়েছে যে, সংসদ আইন প্রণয়ন করে সর্বভারতীয় বিচার বিভাগীয় কৃত্যক
    সৃষ্টির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

৪৪তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৮) এই সংশােধনের মাধ্যমে মূলত ৪২তম সংশােধনগুলিকে বাতিল করা হয়। ৪৪তম সংশােধনী আইনটি জনতা সরকারের সংশােধন সময়কালে রচিত হয়। এই সংশােধনের মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন করা হয় তা হল—

  • ৪২তম সংবিধান সংশােধনে নির্দেশমূলক নীতিগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধি করে মৌলিক অধিকারের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছিল। তা রদ করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। অর্থাৎ, মৌলিক অধিকারগুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • লােকসভার কার্যকালের মেয়াদ পুনরায় ৬ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়।
  • সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকারের অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং সাধারণ বিধিবদ্ধ আইনে পরিণত করা হয়।
  • অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বহিরাক্রমণের জন্য ৩৫ নং ধারানুসারে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে।
  • রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সম্পর্কে যদি কোনাে বিরােধের সষ্টি হয়, তাহলে সুপ্রীম কোর্ট তার নিষ্পত্তি করবে।

৪৭তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৪) ১৯৮৪ সালে ৪৭তম সংবিধান সংশােধন আইনের মাধ্যমে ১৪টি ভূমি-সংস্কার আইনকে সংবিধানের নবম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৫১তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৪) এই সংশােধনটি কার্যকর হয় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে। সংবিধানের ৩৩০ ও ৩৩২ নং ধারা দুটির পরিবর্তন করা হয়। ঘােষণা করা হয় যে, আসামের স্বশাসিত জেলা বা অঞ্চলগুলি ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য লােকসভায় এবং ওই সমস্ত অঙ্গরাজ্যগুলির বিধানসভায় আসন সংরক্ষিত থাকবে।

৫২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৫ ) ➟   এই সংশোধনে দলত্যাগের সংজ্ঞা নিরুপিত হয়।

৫৩তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৬ ) ➟  এই সংশােধনের মাধ্যমে মিজোরামকে ২৩তম রাজ্য হিসাবে পূর্ণ অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়।

৫৪তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৬ )  এই সংশােধনের মাধ্যমে সংবিধানের ১২৫ ও ২২১ নং ধারা এবং দ্বিতীয় তফসিলের ‘ঘ’ অংশের পরিবর্তন করা হয়। তার ফলে সুপ্রীম কোর্টের ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি পায়।

৫৬তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৬ )  ১৯৮৭ সাল থেকে কার্যকরী হয়। এই সংশােধনের মাধ্যমে গােয়াকে ২৫তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং গােয়া পূর্ণ অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়।

৬১তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৮ )  ১৯৮৯ সালে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের ৩২৬ নং ধারাটি সংশোধন করে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার ভোটদাতাদের বয়সসীমা সর্বনিম্ন ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।

৬৬তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৮৮ )  এই সংশােধনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রণীত ৫৫টি ভূমিসংস্কার আইনকে আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত করার জন্য সংবিধানের নবম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। নবম তফসিলের ২০২ নং ক্রমিক সংখ্যার পর ২০৩ থেকে ২৫৭ নং ক্রমিক সংখ্যার মধ্যে এই ভূমিসংস্কার আইনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বিহার, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যের ভূমিসংস্কার আইন আছে।

৬৯তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৯১ )  এই সংশােধনের মাধ্যমে দিল্লিকে ‘জাতীয় রাজধানী অঞ্চল হিসাবে ঘােষণা করা হয়।

৭১তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৯২ ) ➟  এই সংশােধনের মাধ্যমে মণিপুরি, কোঙ্কনি ও নেপালি— এই ৩টি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৭৩তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৯২ ) ➟  ১৯৯৪ সাল থেকে এই সংশোধনী কার্যকর হয়। পঞ্চায়েতের গঠন, কার্যকাল, সদস্য সংখ্যা, নির্বাচন, অর্থ কমিশন গঠন, পঞ্চায়েতের আর্থিক ও অন্যান্য বিষয়গুলি সংবিধানভুক্ত করা হয়। তবে জম্মু ও কাশ্মীর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও কয়েকটি রাজ্যের তফসিলভুক্ত অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই আইনটি কার্যকর নয়।

৭৪তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৯২ ) ➟  ১৯৯৩ সাল থেকে এই সংশোধনী কার্যকর হয়। এই সংবিধান সংশোধনী আইনবলে পুরসভার গঠন, কার্যাবলি, মেয়াদ, ওয়ার্ড কমিটি, তফসিলি জাতি, উপজাতি ও মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা, জেলা পরিকল্পনা কমিটি ও মেট্রোপলিটান পরিকল্পনা কমিটি-সহ বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও দ্বাদশ তফসিল ও সংবিধানের ২৪৩-ডবলিউ ধারায় পুরসভার ১৮টি কার্যাবলি অন্তর্ভুক্ত হয়।

৮০তম সংবিধান সংশোধনী (২০০০) এই সংবিধান সংশােধনটি দশম অর্থ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রক্ষা করা হয়। কেন্দ্র ও রাজ্যসমূহের মধ্যে ‘করব্যবস্থার বন্টন’ সম্পর্কিত নীতির পরিবর্তন ঘটানাে হয়।

৮১তম সংবিধান সংশোধনী (২০০০) সংবিধানের ১৬ নং ধারাটির পরিবর্তন করা হয়। এই সংশােধনের মাধ্যমে বলা হয় যে, যদি কোনাে বছরে তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণিদ্বয়ের জন্য সংরক্ষিত সমস্ত সরকারি চাকরির আসন বা পদ পূরণ না হয়, তবে সরকার পরবর্তী বছর বা বছরগুলিতে উক্ত শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে ওই বিশেষ অপূরণযােগ্য পদে নিযুক্ত করতে পারবে।

৮২তম সংবিধান সংশোধনী (২০০০) সংবিধানের ৩৩৫ নং ধারার পরিবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য পরীক্ষার ন্যূনতম প্রাপ্ত নম্বর কমানাে যেতে পারে। এমন কী পরীক্ষার মূল্যায়নের মানকে হ্রাস বা কমানাে যাবে। মূল উদ্দেশ্য যাতে সরকারি চাকরি তফসিলি জাতি ও উপজাতিরা লাভ করতে পারে।

৮৩তম সংবিধান সংশোধনী (২০০০)  উক্ত সংবিধান সংশােধনে বলা হয় যে, অরুণাচল প্রদেশের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় তফসিলি জাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণের কোনাে প্রয়ােজন নেই। কারণ উক্ত রাজ্যটি সম্পূর্ণভাবে উপজাতি অধ্যুষিত।

৮৫তম সংবিধান সংশোধনী (২০০২) সংবিধানের ১৬(৪এ) ধারাটির পরিবর্তন করা হয়। সরকারি চাকরিতে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য বিশেষ সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়।

৮৬তম সংবিধান সংশোধনী (২০০২) সংবিধানে নতুন ২১-ক ধারাটি সংযুক্ত করে ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার অধিকার সংক্রান্ত ৫১-ক ধারাটি সংশোধিত হয়।

৮৯তম সংবিধান সংশোধনী (২০০২) তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য গঠিত পূর্বতন ‘জাতীয় কমিশন’-কে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। একটি হল তফসিলি জাতিদের জাতীয় কমিশন ও অপরটি হল তফসিলি উপজাতিদের জন্য জাতীয় কমিশন। উভয় কমিশনই গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস-চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ৩ জন সদস্যবৃন্দকে নিয়ে। এঁরা নিযুক্ত হবেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক।

৯০তম সংবিধান সংশোধনী (২০০৩) ➟ সংবিধানের ৩৩২ নং ধারাটির পরিবর্তন করা হয়। আসাম বিধানসভায় বােড়ােল্যান্ড থেকে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন।

৯১তম সংবিধান সংশোধনী (২০০৩) উক্ত সংবিধান সংশােধনের মাধ্যমে দলত্যাগবিরােধী আইনটিকে আরাে শক্তিশালী করা হয়। সেই সঙ্গে ঘােষণা করা হয় যে, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় ক্ষেত্রেই মন্ত্রীসভার মােট সদস্যসংখ্যা আইনসভার নিম্নকক্ষের মােট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি করা যাবে না।

৯২তম সংবিধান সংশোধনী (২০০৩) এই সংশােধনের মাধ্যমে বােরাে, ডগরী, মৈথিলী ও সাঁওতালী- এই ৪টি ভাষাকে যুক্ত করা হয়। এর ফলে অষ্টম তফসিলে স্বীকৃত ভাষার সংখ্যা হয় ২২টি।

৯৩তম সংবিধান সংশোধনী (২০০৫) এই সংশােধনীটিতে অসাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মানুষদের স্বার্থে আসন সংরক্ষণ রাখার কথা ঘােষণা করা হয়।

৯৪তম সংবিধান সংশোধনী (২০০৬) এই সংশােধনীটির মাধ্যমে বিহার রাজ্যে স্বতন্ত্র ‘উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রক রাখার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে দেওয়া | হয়। একই ব্যবস্থা চালু করা হয় নতুন রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড় রাজ্য দুটিতে।

৯৫তম সংবিধান সংশোধনী (২০১০) সংবিধানের ৩৩৪ নং ধারা সংশােধন করে লােকসভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য তফসিলি  জাতি ও উপজাতির প্রতিনিধিদের আসন সংখ্যা বাড়ানাে হয় এবং রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের নির্বাচনের বয়স বৃদ্ধি করে ৬০ বছর থেকে ৭০ বছর করা হয়েছে।

৯৬তম সংবিধান সংশোধনী (২০১১) ➟  সংবিধানের অষ্টম তফসিলি সংশােধন করে ওড়িশা রাজ্যের নামের Oriya ‘ওড়িয়া’ শব্দটিকে পরিবর্তিত করে ওডিয়া (Odia) করা হয়েছে।

৯৭তম সংবিধান সংশোধনী (২০১১) ➟  ১৯ নং ধারা সংশােধন করে ৯(বি) নামক একটি ধারা যােগ করা হয়েছে। ১৯ নং ধারার (১) এর সি তে যে ‘উনিয়নস’ কথাটি ছিল তার পরে সমবায় সমিতি বা ‘Co-operative Society’ শব্দটি যােগ করা হয়েছে।

৯৮তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৩) হায়দ্রাবাদ-কৰ্ণাটক অঞ্চলের উন্নয়নকল্পে কর্ণাটকের রাজ্যপালকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ৩৭১(জে) নামক একটি ধারা যােগ করা হয়েছে।

৯৯তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৫)  National Judicial Appointments Commission গঠনের উদ্দেশ্যে ১২৭, ১২৮, ২১৭, ২২২, ২২৪(এ), ২৩১ নং ধারাগুলি সংশােধন করে ১২৪(এ), ১২৪(বি) এবং ১২৪(সি) নামক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই আইন পাশ করার জন্য তৎকালীন মােট ২৯ রাজ্যের মধ্যে গােয়া, ত্রিপুরা, রাজস্থান, গুজরাট, তেলেঙ্গানা-সহ মােট ১৬ রাজ্যের আইনসভা সম্মতি প্রদান করেছে।

১০০তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৫) সংবিধানের প্রথম তফসিলি সংশােধন করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘ছিটমহল’ হস্তান্তর কার্যকরী করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে আগত অভিবাসীদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে।

১০১তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৭) ভারতের কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে সংবিধানের ২৪৮, ২৪৯, ২৫০, ২৬৮, ২৬৯, ২৭০, ২৭১, ২৮৬, ৩৬৬, ৩৬৮ প্রভৃতি ধারা এবং  ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল সংশােধ করা হয়েছে। দেশে একক কর ব্যবস্থা অর্থাৎ জিএসটি (Goods and Services Tax) চালু করার জন্য সংবিধানে ২৪৬(এ), ২৬৯(এ), ২৭৯(এ) নামক নতুন ধারা যােগ করা হয়েছে এবং ২৬৮(এ) ধারাটি বাতিল করা হয়েছে।

১০২তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৮) অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির কল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় কমিশনকে  সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়। এই সংশােধনে ৩৩৮(বি), ৩৪২(এ) ধারা সংযুক্ত হয়েছে এবং ৩৩৮ ও ৩৬৬ নং ধারার সংশােধন করা হয়েছে।

১০৩তম সংবিধান সংশোধনী (২০১৯) সাধারণ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য শিক্ষা ও সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে সংবিধানের ১৫ ও ১৬ নং ধারা সংশােধন করা হয়েছে।

১০৪তম সংবিধান সংশোধনী (২০২০) ➟  লোকসভায় তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণ সত্তর বছর থেকে আশি বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসন সরানো হয়েছে। এর জন্য ৩৩৪ নং ধারাটিকে সংশোধন করা হয়েছে।

Download Section :
File Name : ভারতের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী তালিকা
File Size : 6 MB
Format : PDF
No. of Pages : 09

Click Here to Download

আরও দেখে নাও :


Covered Topics : সংবিধানের সংশোধনের তালিকা, ভারতীয় সংবিধানের উল্লেখযোগ্য সংশোধনী, ভারতীয় সংবিধান বই

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!