For Daily General Knowledge Quizzes and Notes, join our Telegram Group and Facebook page .


General Knowledge Notes in BengaliNotes

তড়িৎ বিশ্লেষণ – তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ ও তড়িৎ লেপন – PDF

Electrolysis and Electroplating

তড়িৎ বিশ্লেষণ – তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ ও তড়িৎ লেপন

প্রিয় পাঠকেরা, আজকে আমরা আলোচনা করবো তড়িৎ বিশ্লেষণ, তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থতড়িৎ লেপন নিয়ে।

তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে ?

যখন কোন তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থের দ্রবনের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করা হয় তখন ঐ তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থের রাসায়নিক বিয়োজন ঘটে নতুন রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়, এই পদ্ধতিকে তড়িৎবিশ্লেষণ (Electrolysis) বলা হয়।

দেখে নাও : বিভিন্ন গ্যাসের ব্যবহার –  Uses of Different Gases –  PDF

তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ কাকে বলে ?

যে সমস্ত পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং এর ফলে পদার্থটির রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে বিভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট নতুন পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সমস্ত পদার্থকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।

উদাহরণ : H2SO4 , HCl, NaOH এর জলীয় দ্রবণ।

ভোল্টামিটার কাকে বলে ?

যে পাত্রের মধ্যে তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়, তাকে ভোল্টামিটার বলা হয়।

তড়িৎদ্বার

তড়িৎদ্বার দুই প্রকার –

  1. অ্যানোড  : ব্যাটারির পজিটিভ মেরুর সাথে যুক্ত তড়িৎদ্বারকে অ্যানোড বলা হয় ।
  2. ক্যাথোড : ব্যাটারির নেগেটিভ মেরুর সাথে যুক্ত তড়িৎদ্বারকে অ্যানোড বলা হয় ।
  • তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপন্ন পজিটিভ তড়িৎগ্রস্ত কণাগুলিকে ক্যাটায়ন বলা হয়। কারণ এই কণাগুলি ক্যাথোডে মুক্ত হয়। উদাহরণ – H+ , Ca2+ 
  • তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপন্ন নেগেটিভ তড়িৎগ্রস্ত কণাগুলিকে অ্যানায়ন  বলা হয়। কারণ এই কণাগুলি অ্যানোডে মুক্ত হয়।
  • আর্হেনিয়াসের তড়িৎ বিয়োজনবাদ অনুযায়ী, তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিয়োজিত হয়ে সমান সংখ্যক অ্যানায়ন বা ক্যাটায়ন না দিলেও মোট ক্যাটায়নের চার্জ ও অ্যানায়নের চার্জ সমান হবে।

দেখে নাও : বিভিন্ন ধাতু-সংকর ও তাদের ব্যবহার | সংকর ধাতু । List of Important Alloys and their Uses

তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যবহার

  • ধাতু নিষ্কাশন : তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক ধাতুগুলি এই পদ্ধতিতে নিষ্কাশন করা হয়। যেমন – সোডিয়াম, পটাসিয়াম।
  • ধাতু শোধন : কপার, জিঙ্ক, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতু শোধন করতে তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • ভারী জল উৎপাদন।
  • তড়িৎলেপন করতে।
  • ক্লোরিন এবং হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদনে তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ যেমন, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, সোডিয়াম ক্লোরেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট, ট্রাই ফ্লুরো অ্যাসেটিক এসিড তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়।

তড়িৎ লেপন কি ?

তামা, পিতল, লোহা, প্রভৃতি ধাতু বা ধাতু-সংকরের তৈরি বস্তুর ওপর তড়িৎবিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সোনা, রুপো, নিকেল, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয় । এই পদ্ধতিকে তড়িৎ লেপন বলে ।

দেখে নাও : কাঁচকে রঙিন করতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক তালিকা

তড়িৎ লেপন পদ্ধতি

  • বস্তুর ওপর তড়িৎ-লেপন করা হয়, প্রথমে তাকে পর পর লঘু ক্ষার দ্রবণ, অ্যাসিড দ্রবণ এবং সবশেষে জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় ।
  • এই পরিষ্কার করা বস্তুকে ভোল্টামিটারে ক্যাথোড রূপে ব্যবহার করা হয় ।
  • যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, সেই ধাতুর টুকরোকে অ্যানোডরূপে ব্যবহার করা হয় ।
  • ভোল্টামিটারে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থরূপে ব্যবহার করা হয়, যে পদার্থের প্রলেপ দেওয়া হবে সেই পদার্থের জলে দ্রাব্য লবণের দ্রবণ ।
  • দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চালনা করলে অ্যানোডের ধাতু ক্রমশ ক্ষয় পায় এবং ক্যাথোডে ঝোলানো বস্তুগুলির ওপর ওই ধাতুর প্রলেপ পড়তে থাকে । যত বেশি সময় ধরে তড়িৎপ্রবাহ করা হয় তত বেশি পরিমাণ প্রলেপ পড়ে ।

যে পদার্থের আস্তরণ দিতে চাওয়া হয় তাকে অ্যানোডে এবং যে পদার্থের ওপরে আস্তরণ দিতে চাওয়া হয় তাকে ক্যাথোডরূপে ব্যবহার করা হয়। 

অর্থাৎ লোহার বালতিতে জিঙ্কের প্রলেপ দিতে হলে লোহার বালতি ক্যাথোড ও জিঙ্কের পাত অ্যানোডে ব্যবহার করতে হয়।

দেখে নাও : বিভিন্ন যৌগের সাধারণ নাম – রাসায়নিক নাম ও রাসায়নিক সংকেত

তড়িৎ-লেপনের উদ্দেশ্য

তামা, লোহা, পিতল প্রভৃতি ধাতু বা ধাতু সংকরের তৈরি বস্তুগুলিকে জলবায়ুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করার জন্য, বিশেষত বাতাসের মধ্যস্থ জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য  এবং পদার্থগুলির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য ওই বস্তুগুলির ওপর তড়িৎ লেপন করা হয় । যেমন— লোহার তৈরি বস্তুর উপর আর্দ্র বায়ুতে মরচে পড়ে, ফলে বস্তুটির সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে বস্তুর স্থায়িত্ব কমে যায় । বস্তুটিকে পরিষ্কার করে তার ওপর নিকেল, ক্রোমিয়াম প্রভৃতির আস্তরণ দিলে মরচে পড়ে না । বস্তুটি দেখতে সুন্দর হয় ও স্থায়িত্ব বেড়ে যায় । এছাড়া পিতল বা ব্রোঞ্জের গহনার ওপর সোনার প্রলেপ দিয়ে ও ওর সৌন্দর্য, স্থায়িত্ব এবং ক্রেতার আকর্ষণ করার ক্ষমতা বাড়ানো হয় ।

তড়িৎ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ

তড়িৎ লেপনের জন্য ধাতুতড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ
নিকেলবোরিক অ্যাসিড, নিকেল সালফেট
সিলভারপটাসিয়াম আর্জেন্টোসায়ানাইড
সোনাপটাসিয়াম অরোসায়ানাইড
ক্রোমিয়ামক্রোমিক অ্যাসিড, ক্রোমিক সালফেট
জিঙ্কজিঙ্ক ক্লোরাইড
টিনস্ট্যানাস ক্লোরাইড
বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ

Download Section :

  • File Name : তড়িৎ বিশ্লেষণ – তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ ও তড়িৎ লেপন – বাংলা কুইজ
  • File Size : 2.8 MB
  • No. of Pages : 04
  • Format : PDF

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!