NotesGeneral Knowledge Notes in Bengali

শ্বসন কাকে বলে ? শ্বসনের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও অন্যান্য তথ্য

Respiration : Definition, Types Importance

Rate this post

শ্বসন কাকে বলে ? শ্বসনের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও অন্যান্য তথ্য

প্রিয় পাঠকেরা, আজকে আমরা আলোচনা করবো জীবনবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শ্বসন নিয়ে। আমরা দেখে নেবো শ্বসন কাকে বলে ? শ্বসনের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও অন্যান্য তথ্য । Respiration : Definition, Types Importance | Swoson , Shwoson, Soson |

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কিত কিছু তথ্য । Photosynthesis

শ্বসন কাকে বলে ?

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ জটিল খাদ্যদ্রব্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জল নির্গত করে তাকে শ্বসন বলা হয়।

সকল সজীব কোষেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়ার জন্য শক্তির দরকার হয়। আর এ শক্তির উৎস কোষের শর্করা, প্রােটিন, লিপিড ইত্যাদি জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এদের মধ্যে শর্করাই হচ্ছে শক্তির প্রধান উৎস। সজীব কোষে জৈব খাদ্য যেমন- শর্করা, প্রােটিন, লিপিড ইত্যাদি এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাহায্যে জারণের মাধ্যমে ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হয় এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জল তৈরি হয়।

দেখে নাও : উদ্ভিদের ট্রপিক চলন, ট্যাকটিক চলন এবং ন্যাস্টিক চলন এর মধ্যে পার্থক্য

শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা জীবের শক্তি ব্যয়কারী জৈবনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদের প্রতিটি জীবন্ত কোষেই দিন রাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন কার্য চলতে থাকে।

কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজমে শ্বসন ক্রিয়া সংঘটিত হয়। তবে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।

শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে সব জটিল যৌগিক বস্তুসমূহ জারিত হয়ে সরল বস্তুতে পরিণত হয় সে সব বস্তুকে শ্বসনিক বস্তু বলা হয়। শর্করা, প্রােটিন, চর্বি এবং জৈবিক অ্যাসিডসমূহ শ্বসনিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূর্যালােকের আলােক শক্তিই এ সব বস্তুতে রাসায়নিক স্থিতি শক্তি হিসেবে জমা থাকে এবং শ্বসনের ফলে স্থিতি শক্তি গতি শক্তি হিসেবে নির্গত হয়।

দেখে নাও : কোষ বিভাজন কাকে বলে? প্রকারভেদ – Cell Division

শ্বসনের বৈশিষ্ট্য :

  • শ্বসন একটি অপচিতিমূলক বিপাক ক্রিয়া।
  • এর ফলে জীবের শুস্ক ওজন হ্রাস পায়। 
  • শ্বসন একটি তাপমোচী প্রক্রিয়া। 

শ্বসন স্থান ও শ্বসন অঙ্গাণু

এককোষী থেকে বহুকোষী সমস্ত ধরনের জীব দেহের প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন দিনরাত ঘটে। কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজমে শ্বসন ক্রিয়া সংঘটিত হয়। তবে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ। শ্বসনের অধিকাংশ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি মাইট্রোকন্ডিয়াতে ঘটায় মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়

শ্বসনের প্রকারভেদ :

শ্বসন কত প্রকার ও কি কি ?

শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেনের প্রয়ােজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু’ভাগে ভাগ
করা হয় – সবাত শ্বসনঅবাত শ্বসন

১. সবাত শ্বসন

সবাত শ্বসন কাকে বলে ? যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়ােজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, জল ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলা হয়।

শ্বসন বলতে সাধারণত সবাত শ্বসনকেই বােঝায়। উচ্চশ্রেণির সকল জীবে এ ধরনের শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। সবাত শ্বসনের ক্ষেত্রে প্রয়ােজনীয় অক্সিজেন বায়ু থেকে আসে এবং ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে, পরে কোষের জলে দ্রবীভূত হয়।

সবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া

সবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া -
সবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া –


গ্লুকোজ একটি উচ্চশক্তি সম্পন্ন যৌগ। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে ৬৮৬ কিলােক্যালরি শক্তি উৎপন্ন করে। শ্বসনের জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া অনেকগুলাে ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে ঘটে এবং প্রত্যেকটি ধাপের বিক্রিয়া পৃথক পৃথক এনজাইম দ্বারা পরিচালিত হয়।

সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি প্রধানত চারটি ধাপে ঘটে। এগুলি হল –

  • গাইকোলাইসিস
  • এসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
  • ক্রেবস্ চক্র ও
  • ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র ।

২. অবাত শ্বসন

অবাত শ্বসন কাকে বলে ? যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের দরকার হয় না তথা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসনকে বলা হয় অবাত শ্বসন।

এ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য সম্পূর্ণরূপে না ভেঙ্গে আংশিকভাবে ভাঙ্গে এবং কতকগুলাে মধ্যবর্তী যৌগ যেমন- ইথাইল অ্যালকোহল উৎপন্ন করে।

খাদ্য অসম্পূর্ণভাবে জারিত হবার কারণে অবাত শ্বসনে সবাত শ্বসন অপেক্ষা কম শক্তি নির্গত হয়। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে অবাত শ্বসন ঘটে না।

দেখে নাও : উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের পার্থক্য

অবাত শ্বসন ঘটে নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদে, যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি। তবে উচ্চশ্রেণির কিছু উদ্ভিদের মূলের চারদিকে মাটি বন্যায় প্লাবিত হলে ক্ষণস্থায়ী অবস্থায় অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে পারে।

ঈষ্ট হচ্ছে এক ধরনের এককোষী ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ, এরা অবাত শ্বসনে সক্ষম। ঈষ্ট শর্করা জাতীয় খাদ্যকে এনজাইমের সাহায্যে ভেঙ্গে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সইড তৈরি করে এবং মধ্যবর্তী যৌগ হিসেবে ইথানল তথা ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি করে।

অবাত শ্বসন দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এগুলি হল

  • গ্লাইকোলাইসিস ও
  • পাইরুভিক অ্যাসিডের অসম্পূর্ণ জারণ।

অবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া

অবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া
অবাত শ্বসনের রাসায়নিক বিক্রিয়া


শ্বসনের প্রভাবক

সালােকসংশ্লেষণ-এর ন্যায় শ্বসনও কতগুলাে প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলাে বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ এ দু’ধরনের হয়।

বাহ্যিক প্রভাবকগুলাের মধ্যে রয়েছে- আলাে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, জল , তাপমাত্রা, অক্সিজেন ইত্যাদি।

অভ্যন্তরীণ প্রভাবকগুলাের মধ্যে রয়েছে- এনজাইম, জটিল খাদ্যদ্রব্য, কোষের বয়স, কোষস্থ অজৈব লবণ, কোষ মধ্যস্থ জল, মাটিস্থ অজৈব লবণ এবং অন্যান্য প্রভাবক ইত্যাদি।

শ্বসনের গুরুত্ব

প্রত্যেক জীবের জন্য শ্বসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রতিটি সজীব কোষেই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে শ্বসন ক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হলে জীব কোষের মৃত্যু অনিবার্য। শ্বসনের মূল গুরুত্বগুলি নিচে দেওয়া রইলো –

  • প্রত্যেক জীবের প্রতিটি জৈবিক প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য শক্তির দরকার। আর এ শক্তি আসে শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
  • শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে নির্গত হয়। উক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড সবুজ উদ্ভিদ পুনরায় সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। কাজেই শ্বসন ও সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া দুটি পৃথিবীতে জীবন প্রবাহ অব্যাহত রাখতে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • শ্বসন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশােষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের হার কম হলে খনিজ লবণ পরিশােষণের হার কমে, ফলে বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক কার্য ব্যাহত হয়।
  • শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাব কোষ বিভাজনের উপর পড়ে। কোষ বিভাজনের প্রয়ােজনীয় শক্তি শ্বসন প্রক্রিয়া থেকে আসে। এজন্য এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব এসিড সৃষ্টিতে সহায়তা করার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য জৈবিক কাজেও সহায়তা করে।
  • অবাত শ্বসনের ফলে উৎপন্ন ইথাইল অ্যালকোহল বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

সারসংক্ষেপ

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ জটিল খাদ্যদ্রব্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জল নির্গত করে তাকে শ্বসন বলা হয়। শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন। যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়ােজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, জল ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলা হয়। যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের দরকার হয় না তথা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসনকে বলা হয় অবাত শ্বসন

To check our latest Posts - Click Here

Telegram

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!
Nobel 2022 Winner List in Bengali Current Affairs in Bangla – 26th October 2022 বাংলাদেশের নব নির্মিত পদ্মা সেতু – জেনে নিন আকর্ষণীয় তথ্য