For Daily General Knowledge Quizzes and Notes, join our Telegram Group and Facebook page .


General Knowledge Notes in BengaliNotes

ভারতের রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতা | Veto Powers of President of India

ভারতের রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতা

আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় ভারতের রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতা (Veto Powers of President of India ) । প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক । কিন্তু বেশিরভাগ বইতে এই টপিকটি ঠিক থাকে আলোচনা করা হয় না। তাই আমরা তোমাদের জন্য এই টপিকটি কভার করার চেষ্টা করলাম।

ভেটো ক্ষমতা কি ?

ভেটো হচ্ছে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত বা আইনের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা।

ভারতের রাষ্ট্রপতির এই ভেটো ক্ষমতা আছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতা

পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই আইন হয়ে যেতে পারে। যখন এই ধরনের বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা হয়, তখন তাঁর কাছে তিনটি বিকল্প থাকে (সংবিধানের ১১১ নং ধারার অধীনে)

  1. তিনি বিলে তার সম্মতি দিতে পারেন, অথবা
  2. তিনি বিলে তার সম্মতি না দিয়ে বিলটি আটকে দিতে পারেন , অথবা
  3. তিনি সংসদের পুনর্বিবেচনার জন্য বিলটি (যদি এটি অর্থ বিল না হয়) ফেরত পাঠাতে পারেন।

তবে যখন সংসদের পুনর্বিবেচনার জন্য কোন বিল পেস করা হয়ে এবং সেটি সংশোধনের সহ বা ছাড়া সংসদে আবার পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পুনরায় উপস্থাপন করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি সেই বিলে তার সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন।

এভাবে, সংসদে পাস হওয়া বিলের উপর রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতা আছে, অর্থাৎ তিনি বিলে তার অনুমোদন আটকে রাখতে পারেন।

দেখে নাও : ভারতের রাষ্ট্রপতি ( PDF ) – President of India সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ।

রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতার উদ্দেশ্য

রাষ্ট্রপতিকে ভারতীয় সংবিধান এই ক্ষমতা প্রদান করেছে মূলত দুটি উদ্দেশ্যে।

  1. পার্লামেন্ট কর্তৃক তাড়াহুড়ো এবং অযৌক্তিক আইন রোধ করা; এবং
  2. অসাংবিধানিক হতে পারে এমন আইন রোধ করা।

ভারতের রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন ভেটো ক্ষমতা

ভারতের রাষ্ট্রপতির তিনটি ভেটো ক্ষমতা রয়েছে । এগুলি হল –

পরম ভেটো (Absolute Veto )

,পরম ভেটো হল আইনসভায় পাস হওয়া বিলের সম্মতি রোধ করা। এক্ষেত্রে বিলটি আর আইনে পরিণত হয় না।

এখনো পর্যন্ত দুইবার এই পরম ভেটো ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি ব্যবহার করেছেন –

  • ১৯৫৪ সালে রাজেন্দ্রপ্রসাদ এবং
  • ১৯৯১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটরামন অ্যাবসলিউট ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেন।

সন্দেহজনক ভেটো (Suspensive Veto )

সাসপেনসিভ ভেটোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি আইনসভায় পাস হওয়া বিলটি পুনরায় বিবেচনা করার জন্য পাঠান। সাধারণত পার্লামেন্টের যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিলটি পাস করে সেটি পুনরায় তাদের কাছে পাঠানো হয় এবং এক্ষেত্রে তারা চাইলে পরিবর্তন করে বা পরিবর্তন না করেই আবার রাষ্ট্রপতির কাছে বিলটি ফেরত পাঠান । এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতিদানে বাধ্য থাকেন।

সাসপেনসিভ ভেটোর মূল উদ্দেশ্য হল বিলটিকে দেরি করে আইনে পরিণত করানো। অর্থবিলের ক্ষেত্রে এই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না ।

পকেট ভেটো (Pocket Veto )

পকেট ভেতর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিলটি স্বাক্ষর না করে ফেলে রাখেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি কোনো সময়সীমা ছাড়াই বিলটি তার কাছে ফেলে রাখতে পারেন। আমেরিকার ক্ষেত্রে এই ধরণের ভেটোতে রাষ্ট্রপতিকে ১০দিনের মধ্যে স্বাক্ষর দিয়ে হয় কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রপতির এরূপ কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জৈল সিং তাঁর পকেট ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন পোস্ট অফিস বিলের ক্ষেত্রে ।

NOTE : সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রপতির কোনও ভেটো ক্ষমতা নেই ।

কোন ধরণের বিলের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কি ক্ষমতা রয়েছে তার একটি ছোট্ট তালিকা নিচে দেওয়া রইলো ।

বিলরাষ্ট্রপতির ক্ষমতা
সাধারণ বিল অনুমোদন করতে পারেন (Ratify )
বাতিল করতে পারেন (Reject )
পুনরায় বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন (Return )
অর্থ বিল অনুমোদন করতে পারেন (Ratify )
বাতিল করতে পারেন (Reject )

পুনরায় বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন (Return ) না।
সংবিধান সংশোধনী বিল অনুমোদন করতে পারেন (Ratify )
বাতিল করতে পারেন (Reject ) না ।
পুনরায় বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন (Return ) না ।
বিভিন্ন বিলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

আরও দেখে নাও :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!