Telegram

প্রতিদিন বিনামূল্যে মক টেস্ট ও বিভিন্ন ধরণের নোটস-এর জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যাও । 

All NotesEnvironmental Studies

জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ । Biodiversity and Conservation

Biodiversity and Conservation

জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ

প্রিয় পাঠকেরা, আজকে আমরা আলোচনা করবো জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ নিয়ে।

জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব

পৃথিবীতে বিভিন্ন গােষ্ঠীর জীব রয়েছে, এগুলি হল—প্রােটিস্টা, মােনেরা, ফাংগি, প্ল্যান্টি এবং অ্যানিমালিয়া। এগুলি নিয়ে পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে। খাদ্য উৎপাদনে, ড্রাগ ও ওষুধ প্রস্তুতিতে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্যের অর্থনৈতিক গুরুত্বও  রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত শিল্প ও সাহিত্যে জীববৈচিত্র্যকে নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

জীববৈচিত্র্যে স্তরের শ্রেণীবিভাগ

জীববৈচিত্র্যেকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়, সেগুলি হলো

১. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য : কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির জীব বসবাস করলে তাদের একত্রে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলা হয়।

২. জিনগত বৈচিত্র্য : একই প্রজাতিভুক্ত জীবের মিউটেশন হওয়ার ফলে যে-প্রকরণ বা ভেদের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।

৩. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য : বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠীর মধ্যে যে-বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়, তাকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্রকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায় – আলফা বৈচিত্র, বিটা বৈচিত্র এবং গামা বৈচিত্র।

জীববৈচিত্র্যের হটস্পট

জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ স্থানকে হটস্পট বলে। সারা পৃথিবীর ৩৪টি হটস্পটের মধ্যে ৪টি হটস্পট ভারতে অবস্থিত।

এই হটস্পটগুলি। হল

  1. পূর্ব হিমালয় হটস্পট
  2. ইন্দো-বার্মা হটস্পট
  3. পশ্চিমঘাট হটস্পট এবং
  4. শ্রীলঙ্কা ও সুন্দাল্যান্ড হটস্পট।

এই হটস্পটগুলিতে জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত বিভিন্ন প্রকার  জীবের সংরক্ষণ ঘটে।

দেখে নাওভারতের জাতীয় উদ্যান তালিকা

 জীববৈচিত্র্যের হ্রাস

বিভিন্ন কারণের জন্য পৃথিবীব্যাপী জীববৈচিত্র্যের হ্রাস ঘটছে, এই কারণগুলি হল—

  • জমি ব্যবহারের রীতির পরিবর্তন
  • শিকার এবং চোরাশিকার
  • বিশ্ব উন্নয়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তন
  • দূষণ
  • অতিব্যবহার এবং
  • বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ।

যেসব কারণে জীববৈচিত্র্যের হ্রাস ঘটছে সেগুলিকে রােধ করতে হবে। জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করতে হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষ অতি জরুরি, কারণ এটি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।

সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা

বর্তমানে সুন্দরবনে বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যাগুলি হল—

  • নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস
  • কৃষিজমির ফসল নষ্ট,
  • মিষ্টিজলের সংকট
  • বাসস্থান ধ্বংস
  • দূষণ
  • খাদ্য-খাদকের সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত
  • সমুদ্রের জলের উন্নতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপভূমির নিমজ্জন।

UNESCO-র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মধ্যে সুন্দরবন  অন্যতম। এ ছাড়া সুন্দরবন বায়ােস্ফিয়ার রিজার্ভ এবং সুন্দরবন  জাতীয় উদ্যান বিভিন্ন সজীব প্রজাতির সক্রিয় সংরক্ষণ কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করে। তাই উল্লিখিত সমস্যাগুলিকে দূর করে  সুন্দরবনে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা অতি জরুরি।

দেখে নাওপশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান | National Parks of West Bengal

জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ

বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্যের সুষ্ঠু  ব্যবহার, অপচয় রােধ, রক্ষণাবেক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং যথাযথ  নিয়ন্ত্রণ দ্বারা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ইনসিটু এবং এক্সসিটু পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্যের যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে FM ও PBR-র ভূমিকা

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পিপলস বায়ােডাইভারসিটি রেজিস্টারের ভূমিকা অপরিসীম।

JFM: JFM ভারত সরকারের একটি সংস্থা। JFM প্রকল্পটি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিম মেদিনীপুরের আরাবারি অরণ্যে চালু হয়। আরাবারি অরণ্যের নষ্ট হয়ে যাওয়া শাল গাছের পুনরুদ্ধারের জন্য এই প্রকল্পটি চালু হয়। স্থানীয় মানুষজনের সহায়তায় অরণ্য সুরক্ষা কমিটি গঠন করার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি চালু হয়। অরণ্য ধ্বংস রােধ করে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের এই JFM প্রকল্পে যােগদান করার বিষয়টি পরিবেশ ভালাে রাখার ক্ষেত্রে এক আশার কথা। কারণ, মানুষই পারে পরিবেশ ভালাে রাখতে এবং দূষণমুক্ত সেই পরিবেশে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে।

PBR: পিপল্স বায়ােডাইভারসিটি রেজিস্টার হল স্থানীয় মানুষের সাহায্যে গড়ে তােলা এক প্রামাণ্য নথি, যেখানে স্থানীয় জীবসম্পদ সম্বন্ধে জ্ঞান, তাদের প্রাপ্তিসাধ্যতা, তাদের ব্যবহার এবং তাদের সম্বন্ধে ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাগত বিশ্বাস সংক্রান্ত অসংখ্য তথ্য মজুত থাকে।

ইনসিটু সংরক্ষণের বৈশিষ্ট্য

  1. ইনসিটু সংরক্ষণে প্রজাতিকে তাদের নিজস্ব বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণ করা হয়।
  2. এই সংরক্ষণের মাধ্যমে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে সংরক্ষণ করা হয়।
  3. ইনসিটু সংরক্ষণের প্রোটেক্টেড রিজার্ভে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হয়।
  4. এখানে হটস্পট, সুরক্ষিত অঞ্চল, রিজার্ভ ফরেস্ট, রিজার্ভ লেক, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, জাতীয় উদ্যান এবং অভ্যয়ারণ্যে জীববৈচিত্রের সংরক্ষণ করা হয়।

এক্সসিটু সংরক্ষণের বৈশিষ্ট্য

  1. এই সংরক্ষণে সজীব প্রজাতিকে তাদের বাসস্থান থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে রেখে সংরক্ষণ করা হয়।
  2. এখানে বোটানিক্যাল গার্ডেন, আরবোরেটা, জুলজিক্যাল গার্ডেন, একুয়ারিয়াম, জীন ব্যাঙ্ক, সিড ব্যাঙ্ক, হোম গার্ডেন্স, স্যাক্রেড প্লান্টস, ক্রায়ো সংরক্ষণ প্রভৃতির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা হয় ।

ভারতের কিছু বিপন্ন প্রজাতি এবং তাদের সংরক্ষণ

বন্যপ্রাণীদের প্রয়ােজনীয় সুরক্ষা, প্রজনন ও তাদের বৃদ্ধির সুব্যবস্থা করে তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানাের মাধ্যমে
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার সার্বিক কর্মসূচিই হলো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।

বাঘ, গন্ডার, সিংহ, কুমির, রেড পান্ডা জাতীয় বন্যপ্রাণীকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে ও তাদের বংশবৃদ্ধিকে সুনিশ্চিত করা যাবে। ফলস্বরূপ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভবপর হবে।

সিকিমের কাঞ্চনজঙ্ঘা অরণ্যে রেড পান্ডা সংরক্ষণ করা হয়। গুজরাটের গির অরণ্যে সিংহ সংরক্ষণ করা হয়। মানস ও
কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!