For Daily General Knowledge Quizzes and Notes, join our Telegram Group and Facebook page .


General Knowledge Notes in Bengali

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প – PDF

Different Schemes of West Bengal Government

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প

প্রিয় ছাত্রেরা, তোমাদের জন্য দেওয়া রইলো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প (West Bengal Government Schemes list pdf in bengali ) সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য। ওয়েস্ট বেঙ্গল PSC ( WBPSC ) – এর যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক। WPPSC এর  বিভিন্ন পরীক্ষার ইন্টারভিউ ( Interview ) এর আগে অবশ্যই এই টপিকটি দেখে যাওয়া প্রয়োজন।

কমিউনিটি পুলিশ

সমাজের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে রাজ্য পুলিশ এই শাখা খুলেছে। এই শাখার মাধ্যমে প্রবীণদের যত্ন নেওয়া, ফুটবল প্রতিযােগিতা, মহিলাদের আত্মরক্ষা পাঠ দেওযা, দুঃস্থ শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থার মত কর্মসূচী নেওযা হয়ে থাকে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দ্বিমুখী লাভের আশা রয়েছে। নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে সমাজের অনেক তথ্য পাবে পুলিশ। তাতে প্রশাসনের কাজকর্মে সুবিধে হবে। উল্টো দিকে সমস্যায় পড়লে অসহায় নাগরিকরাও সহজে পাশে পাবেন পুলিশকে।

দেখে নাওপশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান | National Parks of West Bengal

সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্প

২০১৬ সালে প্রকল্পটি শুরু  করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু আটকাতে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। এই প্রকল্পটির প্রশংসাও করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

কন্যাশ্রী প্রকল্প

২০১৩ সালে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মেয়েদের বাল্যবিবাহ বন্ধ করা । গরিব ঘরের মেয়েদের যাতে টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ না হয় তা দেখাও এই প্রকল্পের লক্ষ্য‌।

তের আঠেরাে বছরের অবিবাহিতা পাঠরতা মেয়েরা এই কন্যাশ্রী প্রকল্পপ্রকল্পের আওতায় পরবে। তের বছর থেকে আঠার বছরের আগে পর্যন্ত মেয়েরা বার্ষিক ১০০০ টাকা করে এবং আঠার বছর হয়ে গেলে এক কালীন ২৫০০০ টাকা বৃত্তি হিসেবে পায় এই প্রকল্পের আওতায় ।

উল্লেখ্য যে ২০১৭–য় রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে কন্যাশ্রীকে সেরার শিরোপা দেওয়া হয়েছিল। সে বছর মোট ৬৩টি দেশের ৫৫২টি প্রকল্প ছিল দৌড়ে। নেদারল্যান্ডসে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বসেরার পুরস্কার নিয়ে এসেছিলেন।

দেখে নাওপশ্চিমবঙ্গের অভয়ারণ্য তালিকা । Wildlife Sanctuary of West Bengal –  PDF

যােগ্যতা:

যে কোনও মেয়ে, যে

  • অবিবাহিতা।
  • যার বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।
  • পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
  • সরকার স্বীকৃত কোনও প্রতিষ্ঠানে পাঠরতা।
  • নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে।

যে সব নথি জমা দিতে হবে:

  • ১) বাবা-মা/আইনি অভিভাবকের ভােটার কার্ডের ফটোকপি।
  • ২) জন্মের শংসাপত্রের ফটোকপি।
  • ৩) আবেদনকারীর বৈবাহিক অবস্থার ঘােষণা।
  • ৪) দরকারি তথ্য সহ ব্যাঙ্ক পাশবইয়ের ফটোকপি।
  • ৫) সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে রঙিন পাসপাের্ট সাইজের ফটো।
  • ৬) আবেদনকারী যদি ১৩ বছরের বেশি বয়সের হয় কিন্তু অষ্টম শ্রেণির নিচে পাঠরতা হয় এবং তার ৪০% বা তার বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের থেকে গৃহীত প্রতিবন্ধকতার শংসাপত্রের ফটোকপি।

যােগাযােগ: সর্বক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ফর্ম নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল/কলেজ)-এ পাওয়া যায়।

সবুজ সাথী প্রকল্প

সবুজসাথী প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে । এই প্রকল্পে বাংলায় সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, মাদ্রাসা প্রতিটি স্কুলে নবম  কে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রী দের সাইকেল প্রদান করা হচ্ছে।সবুজ সাথী প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে স্কুলছুট বন্ধ, লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এই ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প  প্রভূত সাহায্য করে। ১ কোটির বেশি পড়ুয়াকে সাইকেল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়।

উল্লেখ্য যে রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটির পক্ষ থেকে ২০২০ সালে আয়োজিত অনলাইনে সেরার পুরস্কার পায় সবুজ সাথী প্রকল্প। করোনার জন্য কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি। তাই রাজ্য সরকারকে অনলাইনেই পুরস্কার দেওয়া হয়। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব এস কে থাডে রাজ্য সরকারের তরফে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

খাদ্য সাথী প্রকল্প

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের সূচনা করে। সুলভ মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র মানুষ ২ টাকা কেজি দরে চাল এবং গম পাচ্ছেন। পরিবার পিছু প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫ কেজি পর্যন্ত চাল ও গম এই প্রকল্পের আওতায় দেওয়া হচ্ছে ।

সবুজশ্রী প্রকল্প

‘সবুজ বাংলা’ গড়ে তোলার পেছনে এক অনন্য কাজ করে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সবুজশ্রী’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬-র ১৯ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের সূচনা করেন।  এই প্রকল্পে একটি শিশু জন্মানাের সাথে সাথেই তার মায়ের হাতে একটি মূল্যবান চারা গাছ তুলে দেওয়া হচ্ছে । শিশুর নামেই গাছটির নামকরণ করা হচ্ছে ।  শিশু বড় হলে গাছটিকে শিশুর ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগানাে যেতে পারে। এর ফলে শিশুটির ভবিষ্যতের আর্থিক সুরাহার পাশাপাশি গাছটি ‘জীবজগৎ’কেও এতগুলো বছর ধরে অনেক কিছুই দেবে।

দেখে নাওপশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা | পশ্চিমবঙ্গের প্রথমারা

শিক্ষাশ্রী প্রকল্প

এই প্রকল্পটি ২০১৪ সালে শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরর অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রক উচ্চ প্রাথমিক স্তরের তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের পড়াশোনায় আর্থিক সাহায্য করতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষাশ্রী বৃত্তি প্রকল্প চালু করেছে। এই ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে যে বই কেনা, পড়াশোনা চালু রাখা ও অন্যান্য যে সব বৃত্তি ও ভাতা চালু ছিল, সেগুলি বর্তমানে এই প্রকল্পের অঙ্গে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালের ২৭ জুন দফতরের প্রধান সচিব সঞ্জয় কে থাড়ে একটি বিজ্ঞপ্তি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন।

বাৎসরিক বৃত্তির পরিমাণ

পঞ্চম শ্রেণি৫০০ টাকা
ষষ্ঠ শ্রেণি৬০০ টাকা
সপ্তম শ্রেণি৭০০ টাকা
অষ্টম শ্রেণি৮০০ টাকা

গতিধারা প্রকল্প

২০১৫ সালে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়। রাজ্যের ২০ থেকে ৪৫ বছরের বেকার যুবক যুবতীরা যদি গাড়ি চালিয়ে রােজগার করতে চান তাহলে যে কোনও বাণিজ্যিক গাড়ি কিনলেই রাজ্য সরকার গাড়ির মোট দামের ৩০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা অনুদান বা ভরতুকি হিসেবে দেবে এবং এই অর্থফেরত দিতে হবে না। শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষরাও এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

  • আবেদনকারী বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। কিন্তু SC/ST/ OBC বিভাগের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যথাক্রমে ৫ বছর ও ৩ বছর পর্যন্ত ছাড় থাকবে।
  • আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে।
  • আবেদনকারীর অবশ্যই কর্মহীন হিসেবে Employment BANK নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে।
  • পারিবারিক মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা অথবা তার কম হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • পরিবারের যেকোনো একজন সদস্য এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবে।

দেখে নাওপশ্চিমবঙ্গের ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর –  পার্ট ২ | একনজরে পশ্চিমবঙ্গ

গীতাঞ্জলী প্রকল্প

এই প্রকল্পটি ২০১৪ সালে শুরু হয়। প্রত্যেকের সুনিশ্চিত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। শহর এবং গ্রামে আর্থিকভাবে ছিয়ে পরা মানুষ, যাদের নিজের জায়গা আছে তাদের বাড়ি করার জন্য দুই ধাপে ৭০০০০ টাকা রাজ্য সরকার সাহায্য করবে। একেবারে পিছিয়ে পরা বা দুর্গম এলাকায় দেওয়া হবে ৭৫০০০ টাকা।  গৃহহীন অথচ জমি আছে এমন ব্যক্তি যার মাসিক আয় ৬০০০ টাকা বা তার কম তিনি যোগাযোগ করতে পারেন।

লােকপ্রসার প্রকল্প

লোকপ্রসার প্রকল্পে তালিকাভুক্ত ৬০ বছরের কম বয়সী লোকশিল্পীরা – যারা সরকারের বিভিন্ন প্রচারমূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন , তাদেরকে বহালভাতা হিসাবে প্রতিমাসে ১০০০ টাকা দেওয়া হয়।
বাংলায় বহুসংখ্যক লোকশিল্পী আছেন , যাঁরা সুনামের সঙ্গে বহু অনুষ্ঠান করেছেন এবং শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ শিল্পীই বয়সজনিত কারণে বর্তমানে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে অপারগ। ৬০ বছরের বেশী বয়স্ক এই সব লোক শিল্পীদের লোকপ্রসার প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ১০০০ পেনশন দেওয়া হয়।

ন্যায্য মূল্যের ঔষধের দোকান

২০১২ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হয়। সঠিক দামে ওষুধ সরবরাহ করাই হল এর উদ্দেশ্য। এই ওষুধের দোকান সরকারি হসপিটালের পাশেই থাকবে এবং এখানে ওষুধ ও চিকিৎসার সবরকম সামগ্রী পাওয়া যাবে। এখান থেকে ওষুধ কিনলে ৪৮%-৭৮% পর্যন্ত ছাড় মিলতে পারে দামের উপর।

শিশু সাথী প্রকল্প

২০১৩  সালে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ হলো শিশুদের হৃদপিন্ডে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা। এই প্রকল্পে জন্মের পর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুদের হৃদপিন্ড সংক্রান্ত কোন সমস্যা থাকলে রাজ্য সরকার তার সমস্ত চিকিৎসার ভার নেয়।

শিশু আলয় প্রকল্প

এই প্রকল্পটি ২০১২ সালেচালু হয়। খেলাচ্ছলে শিশুদের পড়াতে হবে— এটাই ‘শিশু আলয়’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য । এই প্রকল্পে অঙ্গনওয়ারীর মাধ্যমে প্রাক প্রাথমিক পর্বের শিশুদের স্কুলে যাবার জন্য তৈরী করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা এবং মেডিক্যাল সম্পর্কিত যাবতীয় সুবিধা প্রদান করা হয়।

পথসাথী প্রকল্প

পথসাথী প্রকল্প এর মাধ্যমে পথের পাশে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার যোগ্য শৌচাগার, রাত্রিবাসের ব্যবস্থা, প্রতিক্ষালয় এবং রেস্তরা সম্বলিত পথসাথী নির্মাণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানত জাতীয় সড়ক ও অন্যান্য সড়কে ৫০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে পথসাথী শৌচাগার নির্মাণ করেছ।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প

২০১৬ সালে এই প্রকল্পটি চালু হয়। প্রথমে এই প্রকল্পের অধীনে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীরা খুব কম খরচে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্বাস্থ্য বিমা পেতেন । কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির কারণে ভয়াবহ ব্যয় থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষার কথা ভেবে সবার জন্য ‘স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

১ ডিসেম্বর-২০২০ থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হয়ে গেছে ৷ তবে অন্য কোনও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় থাকলে এই সুবিধে পাওয়া যাবে না ৷

সবলা প্রকল্প

২০১১ সালে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পটি চালু করে, যেখানে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী সমস্ত কিশােরীরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, জীবনের দক্ষতা, বৃত্তিমূলক দক্ষতা, পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

আনন্দ ধারা প্রকল্প

২০১২ সালে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের গরীব মহিলা যারা স্বনির্ভর গােষ্ঠী করতে চান তাদের লােন দেবার ব্যবস্থা করেন।

যুবশ্রী প্রকল্প

২০১৩  সালে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের সূচনা করে। এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম নথিভুক্তকারী বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারে তরফে দেওয়া হয় মাসিক ১,৫০০ টাকা অনুদান। এমনকী, নাম নথিভুক্তকারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানেরও বন্দোবস্ত রয়েছে ২০১৩ সালে চালু হওয়া ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে। রাজ্যের শ্রম দফতরের পরিচালনায় এই প্রকল্পে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সি অন্ততপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীরা উপকৃত হয়ে আসছেন বিগত কয়েক বছর ধরেই।

সমব্যাথী এবং বৈতরণী প্রকল্প

২০১৬ সালে চালু হয় এই প্রকল্প দুটি ।

সমব্যাথী প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র পরিবারে কেউ মারা গেলে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া করার জন্য রাজ্য সরকার থেকে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

বৈতরণী প্রকল্প শুরু  হয় রাজ্যকে উন্মুক্ত শ্মশান মুক্ত করতে।

স্বাবলম্বন প্রকল্প

রাজ্য সরকার ১৮ . ৩৫ বছরের লাঞ্ছিত, গরীব, ধর্ষিত মহিলা, যৌন কর্মী দের জন্য এই প্রকল্পটি চালু করে। তাদের বিভিন্ন নামি দামি আউটলেটে কাজের সুযােগকরে দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।

খেলাশ্রী প্রকল্প

২০১৭ সালে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পটি চালু করে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ক্লাব স্তরের খেলােয়াড়দের উৎসাহ দান করতে এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাই মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা লীগের প্রথম থেকে পঞ্চম বিভাগের সমস্ত ক্লাসগুলি ও তার সাথে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত সমস্ত ক্লাব এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলি পাঁচটি করে ফুটবলগুলি পাবে ।

রূপশ্রী প্রকল্প

এই প্রকল্পটি চালু হয় ২০১৮ সালে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫ লক্ষ টাকা বা তার কম এমন পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীরা বিয়ে করলে এই প্রকল্পের অধীনে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। রূপশ্রী প্রকল্পের অধীনে বিয়ের দিন ঠিক হওয়ার পর ফর্ম পূরণ করতে হবে পাত্রীকে।বিয়ের ন্যূনতম ৩০ দিন আগে আবেদন করতে হবে।

যোগ্যতা :

  • ১) অন্তত ১৮ বছর বয়সি যে কোনও অবিবাহিতা মেয়ে প্রথম বিবাহের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • ২) পাত্রের বয়স অন্তত ২১ বছর হতে হবে।
  • ৩) এই রাজ্যে জন্ম হয়েছে বা বিগত ৫ বছর যাবৎ পশ্চিমবঙ্গে বাস করছে অথবা পিতা-মাতা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা।
  • ৪) পারিবারিক বার্ষিক আয় অনধিক ১.৫ লক্ষ টাকা হতে হবে।
  • ৫) আবেদনকারীর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকবে যেখানে আই এফ এস কোড, এম আই সি আর কোড আছে।

যে সব নথি জমা দিতে হবে:

  • ১) পারিবারিক আয় : স্বঘােষণা পত্র।
  • ২) আবেদনকারীর বয়সের প্রমাণপত্র : জন্মের শংসাপত্রের ফটোকপি /ভােটার কার্ড/প্যান কার্ড/মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড / আধার কার্ড /সরকার অনুমােদিত বিদ্যালয় ছাড়ার শংসাপত্রের স্বপ্রত্যয়িত ফটোকপি।
  • ৩) আবেদনকারীর বৈবাহিক অবস্থার স্বঘােষণা পত্র।
  • ৪) বসবাসের প্রমাণ : স্বঘােষণা পত্র।
  • ৫) ব্যাঙ্ক পাশবইয়ে আই এফ এস কোড, এম আই সি আর কোড সহ দরকারি তথ্য আছে সেই পৃষ্ঠার ফটোকপি।
  • ৬) আবেদনকারী ও পাত্রের রঙিন পাসপাের্ট সাইজের ছবি।
  • ৭) প্রস্তাবিত বিয়ের প্রমাণ : বিবাহের নিমন্ত্রণ পত্র/ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন নােটিশ  / স্বঘােষণা পত্র।
  • ৮) প্রস্তাবিত পাত্রের বয়সের প্রমাণপত্র : প্রস্তাবিত পাত্রের জন্মের শংসাপত্রের ফটোকপি / ভােটার কার্ড/প্যান কার্ড/মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড/ আধার কার্ড / সরকার অনুমােদিত বিদ্যালয় ছাড়ার শংসাপত্রের ফটোকপি।

যােগাযােগ: উপযুক্ত কাগজপত্র সহ স্থানীয় বিডিও অফিসে বা মহকুমাশাসকের অফিসে । পুর কমিশনারের অফিসে প্রস্তাবিত বিয়ের ৩০ থেকে ৬০ দিন আগে আবেদন করতে হবে।

স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড

পশ্চিমবঙ্গবাসী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থে, তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প সুদ অথচ দীর্ঘমেয়াদে পরিশােধযােগ্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষাঋণ প্রদান। ২০২১ সালে এই প্রকল্পটি চালু হয়েছে।

কারা এই সুবিধা পাবেন : 

  • ১। ভারতের নাগরিক এবং অন্ততপক্ষে ১০ বছর পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী পরিবারভুক্ত শিক্ষার্থী।
  • ২। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীর বয়স অনধিক ৪০ বছর হতে হবে।
  • ৩। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বীকৃত বাের্ড/সংসদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি/বেসরকারি বিদ্যালয়/মাদ্রাসায় দশম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাঠরত শিক্ষার্থী।
  • ৪। দেশ/বিদেশের যে কোনও স্বীকৃত কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা কোর্স সহ স্নাতক/স্নাতকোত্তর/পেশাগত/ডক্টরাল ও পোেস্ট ডক্টরাল কোর্সে পাঠরত শিক্ষার্থী।
  • ৫। বিভিন্ন প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং ইনস্টিটিউশনে প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী।
সব ক্ষেত্রেই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

কী কী নথি/তথ্য প্রয়ােজন:

  • ১। আবেদনকারীর আধার কার্ডের জেরক্স কপি/মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন নথির জেরক্স কপি।
  • ২। আবেদনকারীর মােবাইল ফোন নম্বর ও ই-মেল আই ডি।
  • ৩। আবেদনকারী ও সহ-ঋণগ্রহীতার (মা/বাবা/আইনি অভিভাবক) রঙিন ছবি।
  • ৪। আবেদনকারী ও সহ-ঋণগ্রহীতার প্যান কার্ডের জেরক্স কপি। প্যান কার্ড না থাকলে নির্দিষ্ট ফর্ম্যাটে অঙ্গীকারপত্র।
  • ৫৷ অভিভাবকের ঠিকানার প্রমাণপত্রের জেরক্স কপি ও মােবাইল ফোন নম্বর।
  • ৬। আবেদনকারী ও সহ-ঋণগ্রহীতার ব্যাঙ্কের তথ্য: ব্যাঙ্কের নাম ও শাখা, অ্যাকাউন্ট নম্বর, আই এফ এস কোড ইত্যাদি সম্বলিত ঐ ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স কপি।
  • ৭। আবেদনকারী ও সহ-ঋণগ্রহীতার নমুনা স্বাক্ষর।
  • ৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোর্স ফি সম্বলিত নথির জেরক্স কপি।
  • ৯। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণপত্র/নথির জেরক্স কপি।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প

এই প্রকল্পটি চালু হয়েছে ২০২১ সালে। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মমতা বন্ধোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলার গৃহবধূদের আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর করে তোলা এই প্রকল্পের মূল উদেশ্য।

প্রকল্পের নামলক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প
কারা পাবেগৃহস্থ মহিলা
মাসিক টাকা৫০০-১০০০ হাজার
বছরে টাকা৬-১২ হাজার
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
আবেদন শুরু১৬ আগস্ট ২০২১
আবেদন শেষ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
টাকা ঢোকা শুরু হবে১ সেপ্টেম্বর থেকে।।
আবেদন মাধ্যম“ দুয়ারে সরকার” কাম্প

কারা এই সুবিধা পাবেন:

২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি, এই রাজ্যের যে কোনও পরিবারের মহিলা সদস্য, কোনও সরকারি/সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা/বিধিবদ্ধ সংস্থা/পঞ্চায়েত/পৌরনিগম/পৌরসভা/স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা/সরকার পােষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিতে নিয়মিত কোনও চাকুরি থেকে মাসিক উপার্জন করেন না। এইরূপ প্রত্যেক তপশিলি জাতি/আদিবাসী জনজাতি পরিবারের মহিলা মাসিক ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি/আদিবাসী জনজাতি পরিবার ভিন্ন অন্য পরিবারের মহিলা সদস্য মাসিক ৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন।

কী কী নথি লাগবে:

  • ১। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড-এর স্বপ্ৰত্যয়িত ফটোকপি।
  • ২। আধার কার্ড-এর স্বপ্রত্যয়িত ফটোকপি।
  • ৩। তপশিলি জাতি/আদিবাসী জনজাতি শংসাপত্র-এর স্বপ্রত্যয়িত ফটোকপি।
  • ৪। আবেদনকারীর ব্যাঙ্কের পাশবইয়ে অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাঙ্কের ঠিকানা, আই এফ এস কোড এবং এম আই সি আর কোড সহ অন্যান্য দরকারি তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠার স্বপ্ৰত্যয়িত ফটোকপি।
  • ৫। আবেদনকারীর পাসপাের্ট মাপের রঙিন ফটো।

যথাযথভাবে স্বাক্ষর করা আবেদনকারীর নিমলিখিত ঘােষণাপত্র:
ক) তিনি পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী।
খ) তিনি কোনও সরকারি/সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা/বিধিবদ্ধ সংস্থা/পৌরসভা/স্থানীয় স্বশাসিতসংস্থা/সরকার পােষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিতে নিয়মিত কোনও চাকুরি থেকে মাসিক উপার্জন করেন না।
গ) আবেদনপত্রে দাখিল করা সকল তথ্য সত্য।

যােগাযােগ: দুয়ারে সরকার ক্যাম্প

বিশদ জানার জন্য: www.wbcdwdsw.gov.in ওয়েবসাইট দেখুন।

এই নোটটির PDF ফাইল নিচের ডাউনলোড লিংক থেকে ডাউনলোড করে নাও ।

Download

আরো দেখে নাও :

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সামগ্ৰী

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়

Covered Topics : west bengal government schemes 2020, west bengal government schemes 2021, west bengal government schemes pdf, west bengal government schemes list pdf in bengali

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!