প্রতিদিন বিনামূল্যে মক টেস্ট ও বিভিন্ন ধরণের নোটস-এর জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে যুক্ত হয়ে যাও । 


All NotesHistory Notes

সাতবাহন সাম্রাজ্যের ইতিহাস । সাতবাহন রাজবংশ

Satavahana Dynasty

সাতবাহন সাম্রাজ্যের ইতিহাস । সাতবাহন রাজবংশ

আজকে আমরা আলোচনা করবো সাতবাহন সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে।

  • সাতবাহনদের আদি বাসস্থান ছিল মহারাষ্ট্রে এবং পরবর্তী কালে অন্ধ্রপ্রদেশে।
  • সাতবাহনরা জাতিতে ব্রাহ্মণ ছিল।
  • সাতবাহনদের রাজধানী ছিল পৈঠান বা প্রতিষ্ঠান ( রাজা গোপালাচারীর মতানুযায়ী )
  • সরকারি ভাষা ছিল – প্রাকৃত ।

১. সিমুক ( ৬০ – ৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ )

  • সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিমুক।
  • কাম্ব ও শুঙ্গ বংশের অবসান ঘটিয়ে সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।

২. কৃষ্ণ

  • সাতবাহন বংশের  দ্বিতীয় রাজা ছিলেন সিমুকের ভ্রাতা কৃষ্ণ।
  • রাজা কৃষ্ণ সাতবাহন বংশের সীমা নাসিক পর্যন্ত বিস্তার করেন।

৩. প্রথম সাতকর্ণী

  • সাতকর্ণীর রানী নয়নিকা বা নাগনিকার নানাঘাট লিপি থেকে প্রথম সাতকর্ণীর মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
  • কলিঙ্গরাজ খরবেলের মৃত্যুর পরে তিনি কলিঙ্গ দখল করে নেন।
  • তিনি মধ্যপ্রদেশেও রাজত্ব করেছেন।
  • মালব জয়ের পরে তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞ ও রাজসূয় যজ্ঞ করেন।
  • তাঁর উপাধি ছিল – দক্ষিণাপথপতি এবং অপ্রতিহতচক্র।

৪. গৌতমী পুত্র সাতকর্ণী ( ১০৬ – ১৩০ খ্রিস্টাব্দ ) ( ২৩তম রাজা )

  • গৌতমী পুত্র সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
  • তিনি গ্ৰীক, পহ্লৰ ও শকদের পরাজিত করেছিলেন।
  • রাজা নহপনকে পরাজিত করেছিলেন তিনি।
  • তাঁর মা দেবী গৌতমী বনশ্রীর নাসিক প্রশস্তি থেকে তাঁর কৃতিত্বের কথা জানা যায় ।
  • নাসিক প্রশস্তিতে তাঁকে “ত্রি-সমুদ্র-তোয়োপিত বাহন’, ‘সাতবাহন-কুল-যশ : ‘, ‘শক-যবন-পল্লব-নিসূদন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • গৌতমী পুত্র সাতকর্ণীর মৃত্যুর প্রায় ২০ বছর পরে নাসিক প্রশস্তি লেখা হয়।
  • মহারাষ্ট্র দখল ছিল তাঁর প্রধান কৃতিত্ব।
  •  শকদের শাখা “ক্ষহরত” পরাস্ত করেন।
  • কিন্তু শকদের অপর শাখা ‘কর্দমক’-এর রাজা রুদ্রদমন, ১৩০ খ্রিষ্টাব্দে সাতকর্ণীকে পরাজিত করেন।
  • টলেমির রচনা ও জুনাগড় শিলালিপি সুত্রে জানা যায় শকবীর রুদ্রদমন সাতবাহনদের পরাজিত করে মালব পুনরাধিকার করেন। এই পরিস্থিতিতে শকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে গৌতমীপুত্র রুদ্রদমনের কন্যার সঙ্গে নিজ পুত্রের বিবাহ দেন।

৫. বশিষ্ঠ পুত্র সাতকর্ণী বা পুলুমায়ি ( ১৩০ – ১৫৪ খ্রিস্টাব্দ ) ( ২৪তম রাজা )

  • বশিষ্ঠ পুত্র সাতকর্ণীর সাথে শকরাজ রুদ্রদমনের কন্যার বিবাহ হয়।

৬. যজ্ঞশ্রী বা যশস্বী সাতকর্ণী ( ১৬৫ – ১৯৪ খ্রিস্টাব্দ ) – ( ২৭তম রাজা )

  • শেষ উল্লেখযোগ্য সাতবাহন রাজা।

৭. তৃতীয় পুলুমায়ি ( ৩০তম রাজা )

  • সাতবাহন বংশের শেষ রাজা। ( মতান্তরে যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের শেষ রাজা )।

সাহিত্য ও শিল্পের বিকাশ

  • মূলত এই সময় সীসার মুদ্রা প্রচলিত ছিল। এছাড়াও তামা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রাও দেখা যেত।
  • ব্রাহ্মণ হলেও বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জমিদান করতেন।
  • সরকারি ভাষা প্রকৃত হলেও লিপিগুলিতে ব্রাম্হি ভাষার প্রয়োগ ছিল।
  • মহারাষ্ট্রের নাসিক, কানহেরি এবং কারোলের পাথর কেটে বানানো মন্দির গুলি ছিল সাতবাহন শিল্পের প্রধান নিদর্শন।

সাতবাহন বংশের প্রথম শাসক কে ?

সিমুক

সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ?

সিমুক

সাতবাহন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন ?

গৌতমী পুত্র সাতকর্ণী

সাতবাহন দের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল ?

মহারাষ্ট্রে

সাতবাহন বংশের রাজধানী কোথায় ছিল ?

পৈঠান বা প্রতিষ্ঠান

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker