Notes

ভারতের রাষ্ট্রপতি ( PDF )

Story Highlights
  • ভারতের রাষ্ট্রপতি
  • ভারতের রাষ্ট্রপতির যােগ্যতা :
  • ভারতের রাষ্ট্রপতিদের তালিকা :
  • ভারতের রাষ্ট্রপতির নির্বাচন :
  • রাষ্ট্রপতির অপসারণ পদ্ধতি :
  • রাষ্ট্রপতির শপথ, বেতন, ভাতা, বিশেষ সুযােগসুবিধা :
ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামােটি যুক্তরাষ্ট্রীয়, কিন্তু সরকারের কাঠামােটি সংসদীয়। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রীতি অনুযায়ী ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনবিভাগে একজন নামসর্বস্ব শাসকের পদ রয়েছে। ভাবতের রাষ্ট্রপতি হলেন নামসর্বস্ব শাসক। তত্ত্বগতভাবে তিনিই দেশের প্রধান শাসক, কারণ দেশের যাবতীয় শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা সংবিধান কর্তৃক রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলো  প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভা।

ভারতের রাষ্ট্রপতির যােগ্যতা :


সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে নিম্নলিখিত যােগ্যতার অবকারী হতে হবে –

  1. তিনি ভারতের নাগরিক হবেন;
  2. তিনি কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স্ক হবেন;
  3. তাঁকে লােকসভায় নির্বাচিত হওয়ার যােগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে;
  4. তিনি পার্লামেন্ট বা কোনাে রাজ্য আইনসভার সদস্য হতে পারবেন না;
  5. তিনি কোনাে সরকারি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না;
  6. মনােনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে ১৫০০০ টাকা জামানত হিসাবে জমা দিতে হবে এবং অন্তত ৫০ জন নির্বাচক দ্বারা প্রস্তাবিত ও ৫০ জন নির্বাচক দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

ভারতের রাষ্ট্রপতিদের তালিকা :


নংভারতের রাষ্ট্রপতিদের নামকার্যকাল
ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ২৬.১.১৯৫০–১৩.৫.১৯৬২
ড. সর্বপল্লী রাধাকৃয়ণ১৩.৫.১৯৬২–১৩.৫.১৯৬৭
ড. জাকির হােসেন
বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি (অস্থায়ী)
মহম্মদ হিদায়েতুল্লা (অস্থায়ী)
১৩.৫.১৯৬৭ – ৩.৫.১৯৬৯ (মৃত্যু)
৩.৫.১৯৬৯–২০.৭.১৯৬৯
২০.৭.১৯৬৯–২৪.৮.১৯৬৯
বরাহগিরি ভেঙ্কটগিরি২৪.৮.১৯৬৯-২৪.৮.১৯৭৪
ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ
বি. ডি. জাত্তি (অস্থায়ী)
২৪.৮.১৯৭৪-১১.২.১৯৭৭(মৃত্যু)
১১.২.১৯৭৭–২৫.৭.১৯৭৭
নীলম সঞ্জীব রেড্ডি২৫.৭.১৯৭৭-২৫.৭.১৯৮২
জ্ঞানী জৈল সিং২৫.৭.১৯৮২–২৫.৭.১৯৮৭
রামস্বামী ভেঙ্কটরমন২৫.৭.১৯৮৭–২৫.৭.১৯৯২
ড. শঙ্করদয়াল শর্মা২৫.৭.১৯৯২–২৫.৭.১৯৯৭
১০কে. আর. নারায়ণন২৫.৭.১৯৯৭–২৫.৭.২০০২
১১এ. পি. জে. আবদুল কালাম২৫.৭.২০০২–২৫.৭.২০০৭
১২প্রতিভা পাতিল২৫.৭.২০০৭–২৫.৭.২০১২
১৩প্রণব মুখােপাধ্যায়২৫.৭.২০১২-২৫.৭.২০১৭
১৪রাম নাথ কোবিন্দ২৫.৭.২০১৭- বতর্মান

ভারতের রাষ্ট্রপতির নির্বাচন :


ভারতীয় সংবিধানের ৫৪ এবং ৫৫নং ধারায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়াদি আলােচিত হয়েছে। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্যগণ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচিত সদস্যগণকে নিয়ে গঠিত একটি নির্বাচক সংস্থা কর্তৃক রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

ভারতীয় সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করার ব্যাপারে দুটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত, বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের হার যেন একই থাকে, এবং দ্বিতীয়ত, অঙ্গরাজ্যগুলির মােট ভােট সংখ্যা পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মােট ভােট সংখ্যার যেন সমান হয়। এই উদ্দেশ্যে প্রথমে রাজ্য বিধানসভাগুলির এবং পরে পার্লামেন্টের প্রতিটি নির্বাচিত সদস্যের ভোেট সংখ্যা কত হবে তা নির্ধারণ করতে হয়।

বিধায়কদের ভােট সংখ্যা নির্ণয় –

কোনাে রাজ্যের বিধানসভার প্রত্যেক নির্বাচিত সদস্যের ভােট সংখ্যা নির্ণয় করবার জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মােট জনসংখ্যাকে ওই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত মােট সদস্য সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হয়। ভাগফলকে আবার ১০০০ দিয়ে ভাগ করে যে ভাগফল হবে সেটাই হবে ওই রাজ্যের বিধানসভার প্রতিটি নির্বাচিত সদস্যের ভােট সংখ্যা। দ্বিতীয়বার ভাগের পর ভাগশেষ যদি ৫০০ বা তার বেশি হয় তাহলে প্রত্যেক সদস্যের ভােট সংখ্যা আর একটি করে বাড়বে।

উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ওড়িশার লােকসংখ্যা ছিল ৩১,৬৫৯,৭৩৬ এবং বিধানসভার মােট নির্বাচিত সদস্য ছিল ১৪৭। সুতরাং ওড়িশা বিধানসভার একজন ভােটদাতার ভােট সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২১৫।
(৩১,৬৫৯,৭৩৬ / ১৪৭ ) ÷ ১০০০ = ২১৫
ভাগশেষ ৩৭২ হয়েছিল বলে প্রত্যেক ভােটদাতার ভােট সংখ্যা ২১৫ই থাকে।

রাজ্য বিধানসভার একজন সদস্যের ভােট সংখ্যাকে ওই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে ওই রাজ্যের মােট ভােট সংখ্যা পাওয়া যাবে।

পার্লামেন্টের সদস্যদের ভােট সংখ্যা নির্ণয় –

সকল রাজ্যের ভােট সংখ্যা যােগ করে যে সংখ্যা হবে সেটাই হবে পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যগণের মােট ভােট সংখ্যা। এই মােট ভােট সংখ্যাকে পার্লামেন্টের
নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে পার্লামেন্টের প্রত্যেক নির্বাচিত সদস্যের ভােট সংখ্যা পাওয়া যাবে। তবে ভাগশেষ যদি ভাজক সংখ্যার অর্ধেক বা অর্ধেকের অধিক হয়, তাহলে ভাগফলের সঙ্গে এক যােগ করতে হবে এবং সেটিই হবে একজন সাংসদের ভােট সংখ্যা।

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে সকল রাজ্যের নির্বাচিত বিধায়কদের ভােট সংখ্যার যােগফল হয় ৫০৯৯০৫। ফলে পার্লামেন্টের প্রতিটি নির্বাচিত সদস্যের ভােট দাঁড়ায় ৬৫৭-তে।

রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিকে ‘একক হস্তান্তরযােগ্য ভােট দ্বারা সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (Proportional representation by means of single transferable vote) বলা হয়। এই পদ্ধতি অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যতজন প্রার্থী থাকবেন, ভােটদাতারা তাদের পছন্দের তারতম্য অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীর নামের পাশে ১, ২, ৩, ৪ এইভাবে সংখ্যা বসিয়ে পছন্দ প্রকাশ করেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, কোনাে ভােটদাতা তার দ্বিতীয় এবং পরবর্তী পছন্দ না জানাতেও পারেন, কিন্তু প্রথম পছন্দ তাঁকে জানাতেই হবে; নইলে তার ভােটপত্র বাতিল হয়ে যাবে।

ভােটদান পর্ব শেষ হলে সমস্ত প্রার্থীর প্রথম পছন্দের বৈধ ভােটগুলি যােগ করা হয়। তারপর যােগফলকে ২ দিয়ে ভাগ করে ভাগফলের সঙ্গে ১ যােগ করে যে সংখ্যাটি পাওয়া যাবে সেটিকে বলা হয় কোটা (Quota)। প্রথম গণনায় কোনাে প্রার্থী ‘কোটায় পৌঁছতে পারলে তাকে নির্বাচিত বলে ঘােষণা করা হয়। যদি কেউ কোটা’ না পান তাহলে সর্বাপেক্ষা কমসংখ্যক প্রথম পছন্দের ভােট যিনি পেয়েছেন তাকে বাতিল করে তার ভােটপত্রে যেসব দ্বিতীয় পছন্দ দেখানাে হয়েছে, সেই দ্বিতীয় পছন্দের ভােটগুলি অন্য প্রার্থীদের মধ্যে হস্তান্তর করে দেখা হয় কেউ কোটা পেয়েছেন কিনা। এইভাবে কোটা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভােট হস্তান্তর চলতে থাকে।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ পদ্ধতি :


রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তবে কার্যকাল সমাপ্তির পূর্বেই রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়।

সংবিধানের ৫৬(১)(খ) ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ভঙ্গের অপরাধে ৬১(১)নং ধারায় উল্লিখিত ইমপিচমেন্ট’ (Impeachment) পদ্ধতির মাধ্যমে অপসারণ করা যায়।

  • সংবিধান ভঙ্গের অভিযোেগ পার্লামেন্টের যে-কোনাে কক্ষে আনা যায়।
  • অভিযােগটি প্রস্তুবাকারে উত্থাপনের অন্তত ১৪ দিন আগে নােটিশ দিতে হয়।
  • ওই নােটিশটি সংশ্লিষ্ট কক্ষের মােট সদস্যের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ কর্তৃক সমর্থিত হবে।
  • উত্থাপনকারী কক্ষে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দ্বারা সমর্থিত হলে প্রস্তাবটি অপর কক্ষে প্রেরিত হয়।
  • অপর কক্ষ অভিযােগ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।
  • অনুসন্ধানকারী কক্ষের মােট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ কর্তৃক অভিযােগ স্বীকৃত ও সমর্থিত হলে রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত হন।
  • অনুসন্ধান চলাকালে রাষ্ট্রপতি স্বয়ং অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন। আজ পর্যন্ত কোনাে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়নি।
  • রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা হলে অথবা অন্য কোনােভাবে তাঁর পদ শূন্য হলে উপরাষ্ট্রপতি তার স্থলাভিষিক্ত হন।
  • তবে সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবার পর থেকে ৬ মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
  • উপরাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকলে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণতম বিচারপতি সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ, বেতন, ভাতা, বিশেষ সুযােগসুবিধা :


শপথ গ্রহণ –

সংবিধানের ৬০নং ধারা অনুযায়ী কার্যভার গ্রহণের পূর্বে রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি অথবা তার অবর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণতম বিচারপতির সমক্ষে শপথবাক্য পাঠ করতে হয়।

আমি ঈশ্বরের নামে (অথবা সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে) প্রতিজ্ঞা করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করব, সংবিধান ও আইনকে সংরক্ষণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং ভারতের জনগণের সেবা ও মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব। রাষ্ট্রপতির শপথবাক্যের ধরণ

বেতন, ভাতা –

রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযােগসুবিধা পার্লামেন্ট আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্থির করে। পার্লামেন্ট প্রণীত আইন অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন হল ৫,০০,০০০ টাকা। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুযােগসুবিধা পেয়ে থাকেন এবং অবসর গ্রহণের পর পেনশন পেয়ে থাকেন।

বিশেষ সুযােগসুবিধা ও পদাধিকার বলে রাষ্ট্রপতি যেসব কাজকর্ম সম্পাদন করে থাকেন তার জন্য তাকে আদালতে অভিযুক্ত করা যায় না। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না, আর দেওয়ানি মামলা করতে হলে তার বিরুদ্ধে অন্তত দু’মাসের নােটিশ দিতে হয়।

 

এই নোটটি PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করুন :



Download 

আরো দেখুন :

ভারতের প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন দেশের সংসদ

মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল

প্রশ্নোত্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান – পার্ট ১

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close