Economy

একনজরে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

ভারতের বিভিন্ন ধরণের পরিকল্পনার বিকাশের ইতিহাস

ভারতের অর্থনীতির পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুতির প্রথম শ্রেয় যায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং মহীশুর রাজ্যের দেওয়ান এম. বিশ্বেশ্বরায়ার কাছে |

  • ১৯৩৪ সালে এম. বিশ্বেশ্বরায়া তাঁর বই “Planned economy for India ” – তে ১০ বছরের পরিকল্পনার ধারণা দেন|
  • ১৯৩৮ সালে তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বসুর উদ্যোগে, জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে জাতীয় পরিকল্পনা কমিটি ( National Planning Committee ) গঠিত হয়|
  • ১৯৪৪ সালে বোম্বেতে ৮ জন উদ্যোগপতি ( পুরুষোত্তম দাস, জে. আর. ডি. টাটা, জিডি বিড়লা, লালা শ্রী রাম, কস্তুরভাই লালভাই, জন মাথাই, এ দালাল, এ ডি শ্রফ ) মিলে ১৫ বছরের পরিকল্পনার খসড়া তৈরী করেন যেটি “বোম্বে প্ল্যান” নাম সুপরিচিত|
  • ১৯৪৪ সালে শ্রীমন নারায়ণ “গান্ধীবাদী যোজনা” তৈরী করেন|
  • ১৯৪৫ সালে মানবেন্দ্রনাথ রায় সাম্যবাদী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জন যোজনা ( People’s Plan ) প্রস্তুত করেন|
  • ১৯৫০ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণ শোষণ বিহীন সমাজ তৈরির উদেশ্যে সর্বদোয় যোজনা ( Sarvodaya Plan ) তৈরী করেন|
  • ১৯৫০ সালের ১৫ই মার্চ যোজনা কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় ( Planning Commission ) জাতীয় পরিকল্পনা কমিটির ( National Planning Committee ) রিপোর্ট অনুযায়ী|
  • ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে আবার যোজনা কমিশন ভেঙে দিয়ে নীতি আয়োগ চালু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী|

যোজনা কমিশন (Planning Commission – 1950 )

Planning Commission is an extra-constitutional(non-constitutional ), non-statutory, autonomous, technical, advisory body.
  • ভারতের যোজনা কমিশন হলো একটি অতিরিক্ত – সাংগঠনিক ( extra-constitutional) ,উপদেষ্টা-সমিতি|
  • যোজনা কমিশনকে অর্থনীতির বিকাশের “Think Tank” বলা হয়|
  • যোজনা কমিশনের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর প্রথম সভাপতি ছিলেন জহরলাল নেহেরু|
  • যোজনা কমিশনের প্রধান কাজ হলো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলি প্রস্তুত করা|

জাতীয় উন্নয়ন নিগম (National Development Council – 1952 )

  • ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধি ও যোজনা কমিশন নিয়ে ১৯৫২ সালে তৈরী হয় জাতীয় উন্নয়ন নিগম |
  • যোজনা কমিশনের মতো জাতীয় উন্নয়ন নিগমের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী |
  • জাতীয় উন্নয়ন নিগমের প্রধান কাজ হলো –
    • পরিকল্পনাগুলির পর্যালোচনা করা
    • পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার জন্য মতামত দেওয়া |

প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৫১-১৯৫৬)

  • হ্যারল্ড-ডোমার মডেল অনুযায়ী হয়েছিল |
  • প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল কৃষি ক্ষেত্রের ওপর |
  • এটি ছিল সফল পরিকল্পনা এবং বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৬% ( যদিও লক্ষ্য ছিল ২.১% ) |
  • জাতীয় এই ১১% থেকে ১৮% হয়, মাথাপিছু আয় বাড়ে ১১% |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহেরু |

দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৫৬-১৯৬১)

  • মহলানবীশ মডেল অনুযায়ী হয়েছিল |
  • প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল দ্রুত শিল্পায়নের ( Rapid Industrialization )  ওপরে | দ্বিতীয় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবহনের ওপর
  • নাগার্জুন সাগর, ভাকরা নাঙ্গাল, হীরাকুঁদ প্রভৃতি মাল্টি-পারপাস প্রজেক্ট গুলো এই প্লানে চালু হয় |
  • দুর্গাপুর ( ব্রিটেন ) , ভিলায় ( রাশিয়া ), রাউরকেল্লা ( জার্মানি ) ইস্পাতকেন্দ্র স্থাপিত হয়|
  • এই পরিকল্পনাতে ভারতে মিশ্র অর্থনীতি শুরু হয়।
  • এটি ছিল সফল পরিকল্পনা এবং বৃদ্ধির হার ছিল ৪.১% |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহেরু |

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৬১ -১৯৬৬)

  • এই প্লানটিকে গ্যাডগিল যোজনাও বলা হয় |
  • কৃষি এবং শিল্পায়ন – দুটোয় ছিল এর প্রাধান্য |
  • বোকারো (রাশিয়ার সাহায্যে ) ইস্পাত কেন্দ্রটি ১৯৬৪ সালে তৈরী হয় |
  • ব্যাপক খরা ও চীনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে এই পরিকল্পনাটি তার লক্ষ্য ৫.৬ % – তে পৌঁছতে পারেনি |
  • মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় |

প্ল্যান হলিডে ( ১৯৬৬-১৯৬৯)

  • তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অসফলতা এবং ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত এই তিন বছর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বন্ধ থাকে এবং সেই জায়গায় তিনটি বার্ষিক পরিকল্পনা করা হয় |
  • ১৯৬৬ সালে ভারতে সবুজ বিপ্লব দেখা যায় |
  • ১৯৬৯ সালে ১৪ টি ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ হয় |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী|

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৬৯ -১৯৭৪)

  • প্রধান উদ্দেশ্য ছিল -“Growth with stability”, “Progressive achievement of self-reliance” , “Growth with Justice”, “Establishment of Socialist Order”
  • এই প্লানটি অসফল হয় খারাপ আবহাওয়া এবং বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের জন্য |
  • ভারত ১৮ই মে, ১৯৭৪ সালে রাজস্থানের পোখরানে “স্মাইলিং বুদ্ধা” নামক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা সম্পন্ন করে ।
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৩% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৭% )

পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৭৪-১৯৭৯)

  • এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দারিদ্র দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা |
  • এই পরিকল্পনার প্রথম খসড়াটি তৈরী করেছিলেন সি. শুভ্রমানিয়াম ( ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ) কিন্তু শেষ খসড়াটি তৈরী করেছিলেন ডি. পি. ধর ।
  • “গরিবী হটাও” স্লোগানটি এই পরিকল্পনাতে ব্যবহৃত হয় ।
  • Minimum Needs Program  চালু হয়েছিল |
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৪.৮% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.৪% ) |
  • ১৯৭৮ সালে জনতা দল ক্ষমতায় এলে এই পরিকল্পনাটিকে রদ করে দেওয়া হয় ।

রোলিং প্ল্যান ( ১৯৭৮ – ১৯৮০ )

  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মোরারজি দেশাই ।
  • বার্ষিক পরিকল্পনা করা হয় , বছরের শেষে পরিকল্পনার মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরের বার্ষিক প্লানের লক্ষ্য স্থির করা হয় ।
  • ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এই প্লানটি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও ১৯৮০ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ১৯৮০ সাল থেকে আবার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালু করা হয় ।



ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৮০-১৯৮৫ )

  • দারিদ্র দূরীকরণের ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয় |
  • এছাড়াও টেকনোলজির স্বয়ং নির্ভরতা (Technological Self-Reliance ) , কর্ম সংস্থান বৃদ্ধি এবং গরিবদের জীবনের মাল উন্নয়নের চেষ্টা করা হয় |
  • ১৯৮২ সালে NABARD গঠিত হয় ( শিবরমন কমিটির সুপারিশে  ) |
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৭% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.২% ) |
  • এই পরিকল্পনাতে – IRDP ( Integrated Rural Development Program, 1980) ,

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৮৫-১৯৯০)

  • প্রথমবারের জন্য প্রাইভেট সেক্টর পাবলিক সেক্টরের ওপর প্রাধান্য পেয়েছিল ।
  • জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণের কথা প্রথম ভাবা হয়েছিল ।
  • জওহর রোজগার যোজনা শুরু হয় ১৯৮৯ সালের ১লা এপ্রিল ।
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৬% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫% ) |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী ।

বার্ষিক পরিকল্পনা ( ১৯৯০- ১৯৯২ )

  • রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য ১৯৯০-৯১ এবং ১৯৯১-৯২ পর্যন্ত দুটি বার্ষিক পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছিল ।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৯২-১৯৯৭ )

  • ১৯৯২ সালে পি.ভি.নরসীমা রায়ের নেতৃত্বে স্থায়ী সরকার আসার পর এই পরিকল্পনা শুরু হয় ।
  • প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল – মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ।
  • ভারী শিল্পায়নের তুলনায় শিল্পের কাঠামোর ( Infrastructure )  ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় |
  • মনমোহন সিং LPG ( liberalization, privatisation and globalization ) মডেল শুরু করেন ।
  • প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে |
  • পঞ্চায়েতি রাজ্ ও বিকেন্দ্রীকরণ এই সময়ে শুরু হয় |
  • ১৯৯৫ সালে ভারত ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (WTO)-এর সদস্য হয় ।
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৬% ) |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পি. ভি. নরসিমা রাও।

নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ১৯৯৭-২০০২ )

  • প্রধান লক্ষ্য ছিল -“Growth with Justice and Equity”
  • গ্রামাঞ্চলে কর্মনিয়োগ বাড়ানো ও দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে কৃষিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল ।
  • আন্তর্জাতিক মন্দার কারণে এই প্লানটি অসফল ছিল । জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৫% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬.৫ ) |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ী ।

দশম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ২০০২ -২০০৭ )

  • উদ্দেশ্য ছিল – দারিদ্র দূরীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সব শিশুকে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে স্ত্রী-পুরুষের বিভেদ কমানো, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো, বনাঞ্চলের আয়তন বৃদ্ধি , সব গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, প্রধান প্রধান দূষিত নদীগুলিকে পরিষ্কার করা ।
  • জাতিয় আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭% ( লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮% ) |

একাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ২০০৭ -২০১২ )

  • সি. রঙ্গরাজন এই প্লানটি তৈরী করেছিলেন ।
  • প্রধান লক্ষ্য ছিল – “Faster and more Inclusive Growth” |
  • এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং ।

দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ( ২০১২ -২০১৭ )

  • প্রধান লক্ষ্য ছিল – “Faster , more Inclusive Growth and sustainable growth”
  • বর্তমানে এই প্লানটিই চলছে ।

 

Tags

Anupam Halder

Site Admin, Technical Manager, Active author of BanglaQuiz.in , Quiz and GK enthusiast , Specialized in Traditional GK
Back to top button
Close