Notes

রাষ্ট্রপুঞ্জ

United Nation and Question Answer about United Nation

রাষ্ট্রপুঞ্জ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৫১ টি সদস্য দেশ নিয়ে গড়ে ওঠে রাষ্ট্রপুঞ্জ ( অপর নাম জাতিসংঘ / সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ) । ১৯৪৫ সালের ২৫এপ্রিল থেকে – ২৬ জুন পর্যন্ত আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে সদস্যদেশগুলির প্রতিনিধিরা এর খসড়া সনদ নিয়ে আলােচনা চালায়। ঐ বছর ২৬জুন ৫০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা সনদে স্বাক্ষর করে, অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জন্ম নেয় রাষ্ট্রপুঞ্জ । এটি আসলে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির একটি সংগঠন।

United Nation
United Nation

সদস্য : বর্তমানে ১৯৩ টি দেশ এর সদস্য। এখন সব স্বাধীন দেশই এর সদস্য।

নামকরণ : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের নামকরণ করেছিলেন। | যদিও ১৯৪২ সালের ১লা জানুয়ারী রাষ্ট্রপুঞ্জ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে লড়াই করার জন্য ।

সরকারী ভাষা : আরবি, ফরাসী, রুশ, স্পেনীয়, চীনা, ইংরাজী।

সদর দপ্তর : নিউইয়র্ক (আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র)

 রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখ্য সংস্থা :

৬টি। (ক) সাধারণ সভা, (খ) নিরাপত্তা পরিষদ, (গ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, (ঘ) সচিবালয়, (ঙ) অছি পরিষদ, (চ) আন্তর্জাতিক আদালত।

[ আরো দেখুনপ্রশ্নোত্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান –  পার্ট ১

১. সাধারণ সভা (General Assembly )  :

প্রত্যেক সদস্যদেশের প্রতিনিধি নিয়ে এই সভা গঠিত। প্রতি বছর ১লা সেপ্টেম্বরের পরের মঙ্গলবার এই সভা বসে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সাধারণ সভার অধিবেশন শুরু হয়ে দু সপ্তাহ ধরে চলে। এই সভার প্রধান ৬টি কমিটি হল—

  1. নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কমিটি (Disarmament & International Security )
  2. অর্থনৈতিক কমিটি (Economic & Financial )
  3. সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক কমিটি (Social, Humanitarian & Cultural )
  4. বিশেষ রাজনৈতিক ও ঔপনিবেশিকতা যুক্তি কমিটি (Special Political & Decolonization )
  5. প্রশাসন ও বাজেট কমিটি (Administrative & Budgetary )
  6. আইন কমিটি (Legal )

সাধারণ সভা বার্ষিক বাজেট পাশ করে এবং প্রতিটি সদস্য দেশের অনুদান স্থির করে। মহাসচিব নির্বাচন করে।

২. সচিবালয় (Secretariat ) :

রাষ্ট্রসংঘের সচিবালয় গঠিত হয় সংগঠনের মুখ্য প্রশাসনিক অধিকর্তা মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক স্টাফদের নিয়ে। এই স্টাফদের নিয়ােগ করেন মহাসচিব। এর সদর দপ্তর নিউইয়র্ক ।

৩. নিরাপত্তাপরিষদ [Security Council]:

পাঁচটি দেশ স্থায়ী সদস্য, অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা ১০, অর্থাৎ মােট সদস্য ১৫টি। প্রত্যেকে একটি করে ভােটের অধিকারী, তবে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো প্রয়ােগের অধিকার আছে। ইংরাজী নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য দেশ একমাসের জন্য পরিষদের সভাপতি হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ অনুযায়ী একমাত্র নিরাপত্তা পরিষদই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা সদস্য দেশ গুলি মানতে বাধ্য। নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় দুটি স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে—নিয়ম ও পদ্ধতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং
নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্ত কমিটি। স্থায়ী সদস্য দেশগুলির সেনাপ্রধান বা তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত মিলিটারী স্টাফ কমিটি নিরাপত্তা পরিষদকে পরামর্শ দেয়।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হল চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র | অস্থায়ী সদস্যরা প্রতি দুবছর অন্তর জেনারেল অ্যাসেম্বলি ( সাধারণ সভা ) দ্বারা নির্বাচিত হয় ।

৪. অছি পরিষদ [The Trusteeship Council]: 

পৃথিবীর যে সকল অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা পায় নি, তাদেরকেই অছি অল বলা হয়। প্রাথমিক ভাবে ১১টি অল থাকলেও বর্তমানে সবকটিই স্বাধীনতা লাভ করেছে বা স্বাধীন দেশের সঙ্গে যােগ দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য অর্থাৎ চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সকে নিয়ে গঠিত অছি পরিষদের বর্তমান ক্রিয়াকলাপ বন্ধ রয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে, যখন শেষ অঞ্চল হিসাবে পালাউ স্বাধীনতা লাভ করে।

[ আরো দেখুন : ভারতের রাষ্ট্রপতি ( PDF ) ] 

৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ [The Eeonomic and Social Council]

আন্তর্জাতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির দায়িত্বে রয়েছে এই পরিষদ। সাধারণসভার দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেয়ে
নির্বাচিত ৫৪টি সদস্য দেশকে নিয়ে গঠিত এই পরিষদ। এই পরিষদে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ১৪টি, পশ্চিম ইউরােপ ও অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে ১৩টি, এশিয়া থেকে
১১টি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে ১০টি, পূর্ব ইউরােপ থেকে ৬টি দেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। নির্বাচন হয় প্রতি ৩ বছর ছাড়া।
এই পরিষদের আওতায় ৯টি কার্যকরী কমিশন, ৯টি স্ট্যান্ডিং কমিটি ও সাবসিডিয়ারী এক্সপার্ট বডি, ৫টি আলিক অর্থনৈতিক কমিশন রয়েছে।

৬. আন্তর্জাতিক আদালত | International Court of Justice]

একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এর আওতায় আন্তর্জাতিক আদালত কাজ করে যা আসলে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিচারবিভাগ।
বিচারপতির সংখ্যা : ১৫
ভাষা : ইংরাজী এবং ফরাসী
সদর দপ্তর : দ্য পিস প্যালেস, দি হেগ, নেদারল্যান্ড
কাজ : ক) বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইনি বিবাদ মেটানাে, খ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আইনি পরামর্শ দেওয়া।

[ আরো দেখুনভারতের পার্লামেন্ট বা সংসদ ] 

রাষ্ট্রপুঞ্জ / সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর :

. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস উল্লেখ করাে।
উত্তর ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর।
. জাতিপুঞ্জের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি কী?
উত্তর জাতিপুঞ্জের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমােদিত হলে এবং সাধারণসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র জাতিপুঞ্জের সদস্যপদ লাভকরে।
. জাতিপুঞ্জের পূর্বসূরি হিসাবে চিহ্নিত করা হয় কাকে?
উত্তর লিগ অ নেশনস্-কে।
. লিগ অ নেশনস্ প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
উত্তর ১৯২০ সালের ১০ই জানুয়ারি।
. জাতিপুঞ্জের সংবিধানকে কী বলা হয় ?
উত্তর সনদ।
. জাতিপুঞ্জের সনদের কয়টি ধারা?
উত্তর ১১১টি।
. জাতিপুঞ্জের দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা; খ.সমস্ত জাতির সমানাধিকারেরওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তােলা।
. জাতিপুঞ্জের ২টি নীতির উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. জাতিপুঞ্জের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল সদস্যই সমান, খ. জাতিপুঞ্জের সদস্যরাষ্ট্রগুলি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের বিরােধের মীমাংসা করবে।
. জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা কয়টি এবং কী কী?
উত্তর ৬টি- (i) সাধারণসভা, (ii) নিরাপত্তা পরিষদ, (iii) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, (iv) অছিপরিষদ, (v) আন্তর্জাতিক বিচারালয়, (vi) সচিবালয়।
১০. জাতিপুঞ্জের সনদের ১নং ধারায় কী আছে?
উত্তর জাতিপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্যগুলি লিপিবদ্ধ আছে।
১১. জাতিপুঞ্জের সনদের ২নং ধারায় কী আছে?
উত্তর জাতিপুঞ্জের মূল নীতিগুলি লিপিবদ্ধ আছে।
১২. জাতিপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
১৩. ‘শান্তির জন্য মিলিত হওয়ার প্রস্তাব’ টি কী ?
উত্তর এই প্রস্তাব অনুযায়ী ভেটোপ্রয়ােগে অচল নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ হলে সাধারণ সভা জরুরি সভা আহ্বান করে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারে।
১৪. জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা কাদের নিয়ে গঠিত হয়?
উত্তর জাতিপুঞ্জের সকল সদস্যরাষ্ট্রকে নিয়ে।
১৫. নিরাপত্তা পরিষদ কাদের নিয়ে গঠিত হয়?
উত্তর ৫জন স্থায়ী এবং ১০জন অস্থায়ী সদস্য নিয়ে।
১৬. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য কারা?
উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং গণসাধারণতন্ত্রী চিন—এই পাঁচটি দেশ।
১৭. নিরাপত্তা পরিষদের ‘ভেটো’ ক্ষমতা কী ?
উত্তর কার্যবিধি সংক্রান্ত বিষয় (Procedural) ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের যে-কোনাে স্থায়ী সদস্যের নেতিবাচক ভােটকে ‘ভেটো’ বলা হয়।
১৮. জাতিপুঞ্জের সনদ কীভাবে সংশােধিত হয় ?
উত্তর নিরাপত্তা পরিষদের ৫জন স্থায়ী সদস্যসহ ৯জন সদস্যের এবং সাধারণসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সনদ সংশােধনের প্রস্তাব গৃহীত হলে সনদ সংশােধিত হয়।
১৯. নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যরা কার দ্বারা নির্বাচিত হয় ?
উত্তর সাধারণ সভার দ্বারা।
২০. জাতিপুঞ্জের শান্তিপূর্ণভাবে বিরােধ মীমাংসার দুটি পদ্ধতি উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. আলােচনা, খ. মধ্যস্থতা।
২১. বিশ্বের ২টি উল্লেখযােগ্য আলিক সংস্থার (Regional Agencies) নাম করাে।
উত্তর NATO এবং SEATO।
২২. NATO শব্দটির পুরাে কথাটি কী?
উত্তর North Atlantic Treaty Organization
২৩. SEATO-র পুরাে কথাটি কী ?
উত্তর South East Asian Treaty Organization.
২৪. শান্তিভঙ্গকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে নিরাপত্তা পরিষদ সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছে এমন ২টি ঘটনার উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়ায় এবং খ. ১৯৯১ সালে কুয়েত দখলকারী ইরাকের বিরুদ্ধে।
২৫. নিরাপত্তা পরিষদের ‘পঞ্চপ্রধান’ বলতে কাদের বােঝায় ?
উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চিন—এই পাঁচটি দেশকে।
২৬. কোন্ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্যের ঐকমত্যসূচক ভােট অবশ্য প্রয়ােজন?
উত্তর কার্যবিধি ছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিষয়ে।
২৭. কোন্ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো প্রয়ােগের ক্ষমতা থাকে না ?
উত্তর কার্যবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে (Procedural matters).
২৮. অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে গঠিত জাতিপুঞ্জের সংস্থাটির নাম কী ?
উত্তর উত্তরঃ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ।
২৯. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ২টি বিশেষজ্ঞ সংস্থার (Specialized Agencies) নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা (ILO) , খ. আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF)।
৩০. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সদস্যসংখ্যা কত?
উত্তর ৫৪।
৩১. অর্থনৈতিকও সামাজিক পরিষদের ২টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের উল্লেখ করাে ।
উত্তর ক. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে সে সম্পর্কে নিজ সুপারিশসহ রিপাের্ট সাধারণসভায় পেশ করা, খ. সকল মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার মূল নীতিগুলির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে ও সেগুলি মান্য করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া।
৩২. অছি ব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর বিশ্বের পরাধীন অঞ্চলগুলি যাতে স্বাধীনতালাভের যােগ্য হয়ে উঠতে পারে এবং যােগ্যতা অর্জন করলে যাতে স্বাধীন হতে পারে, তার ব্যবস্থাকে অছি ব্যবস্থা বলা হয়।
৩৩. অছি ব্যবস্থার উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য যে সংস্থাটি গঠিত হয় তার নাম কী ?
উত্তর অছিপরিষদ।
৩৪. অছিপরিষদের ২টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. অছি অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বার্ষিক রিপাের্ট বিচারবিবেচনা করা; খ. অছি-চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করা।
৩৫. অছিপরিষদের প্রচেষ্টায় স্বাধীনতা লাভ করেছে এমন ২টি ভূতপূর্ব অছি অঞ্চলের নাম করাে।
উত্তর ক. ক্যামেরুন, খ. নামিবিয়া।
৩৬. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গঠিত জাতিপুঞ্জের সংস্থাটির নাম কী ?
উত্তর আন্তর্জাতিক বিচারালয়।
৩৭. আন্তর্জাতিকবিচারালয় কতজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হয় ?
উত্তর ১৫ জন।
৩৮. আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারপতিদের নিয়ােগ করা হয় কীভাবে?
উত্তর সাধারণসভা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্বতন্ত্রভাবে অনুষ্ঠিত ভােটে যেসব প্রার্থী অধিকসংখ্যক ভােট পান, তারাই বিচারক হিসাবে নির্বাচিত হন।
৩৯. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মুখ্য প্রশাসনিক অধিকর্তা কে ?
উত্তর মহাসচিব।
৪০. জাতিপুঞ্জের মহাসচিব কীভাবে নির্বাচন হন ?
উত্তর ৫টি স্থায়ী সদস্যের সম্মতিসহ নিরাপত্তা পরিষদের ৯টি সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাব সাধারণ সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভােটে অনুমােদন লাভ করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মহাসচিব হিসাবে নির্বাচিত হন।
৪১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানটির নাম কী ?
উত্তর জাতিসংঘ বা লিগ অ নেশনস্।
৪২. জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষামূলক কার্যকলাপ বলতে কী বােঝ?
উত্তর আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিরােধের নিয়ন্ত্রণ অথবা নিষ্পত্তিকরণের উদ্দেশ্যে জাতিপুঞ্জ অকুস্থলে যেসব কার্য সম্পাদন করে, সেগুলি হল জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষামূলক কার্যক্রম।
৪৩. শান্তিরক্ষামূলক কার্যক্রম কয়প্রকার এবং কী কী?
উত্তর ২ প্রকারের (i) সামরিক বা অসামরিক অফিসারদের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দল, (ii) হালকা অস্ত্রে সজ্জিত শান্তিরক্ষাবাহিনী।
৪৪. জাতিপুঞ্জ প্রথম যে পর্যবেক্ষণ মিশনটি গঠন করে তার নাম কী ?
উত্তর ইউনাইটেড নেশনস ট্রাস সুপারভিশন অরগেনাইজেশন (UNTSO)
৪৫. UNEF কী ?
উত্তর ‘United Nations Emergency Force’, যা জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষাবাহিনী হিসাবে ১৯৫৬ সালে প্রথম পাঠানাে হয় ইজিপ্ট-ইসরায়েল অঞ্চলে ।
৪৬. জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে প্রেরিত সশস্ত্র শান্তিরক্ষা বাহিনীর ২টি উদাহরণ দাও।
উত্তর ক. ১৯৫৬ সালে মিশর ও ইসরায়েল সেক্টরে প্রেরিত বাহিনী (UNEF) এবং খ. ১৯৬০ সালে কগােয় প্রেরিত বাহিনী (UNUC)।
৪৭. ৫৫ জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের ২টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. জাতিপুঞ্জের কার্যকলাপ সম্পর্কে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা এবং তা সাধারণসভা ও নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করা, খ. জাতিপুঞ্জের যে-কোনাে সংস্থা, কমিশন ও কমিটির সাহায্যার্থে প্রয়ােজনীয় দলিলপত্র ও তথ্যাদি সরবরাহ করা।
৪৮. জাতিপুঞ্জের যৌথ নিরাপত্তা কী?
উত্তর যৌথ নিরাপত্তা বলতে বােঝায় জাতিপুঞ্জের সদস্যদের একজনের বিরুদ্ধে আক্রমণকে সকল সদস্যরাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিহত করা।
৪৯. UNESCO -এর পুরাে কথাটি কী ?
উত্তর United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization
৫০. FAO-এর পুরাে কথাটি কী?
উত্তর Food and Agricultural Organisation.
৫১. জাতিপুঞ্জের কি নিজস্ব সৈন্যবাহিনী আছে?
উত্তর না, নেই।
৫২. ইরাকের ওপর বহুজাতিক বাহিনীর আক্রমণের কী নাম দেওয়া হয়েছিল ?
উত্তর অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম।
৫৩. জাতিপুঞ্জের ১৯৩ তম সদস্যরাষ্ট্রটির নাম কী ?
উত্তর দক্ষিণ সুদান।
৫৪. জাতিপুঞ্জের সরকারি (Official) ভাষা কয়টি এবং কী কী ?
উত্তর ৬টি—(i) আরবি, (ii) চাইনিজ, (iii) ইংরাজি, (iv) ফরাসি, (v) রুশ, (vi) স্পেনীয়।
৫৫. ‘ব্লু হেলমেটস’ (Blue Helmets) কাদের বলা হয়?
উত্তর জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে
৫৬. নিরাপত্তা পরিষদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাটি কী?
উত্তর শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরােধ মীমাংসায় ব্যর্থ হলে নিরাপত্তা পরিষদ শান্তিভঙ্গকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবরােধ সৃষ্টি করতে, এমনকি সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। একেই বলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
৫৭. বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান কাজ কী?
উত্তর কোনাে দেশের গঠনমূলক কার্যাবলিতে অর্থসাহায্য করা, যেমন রেলপথ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি।
৫৮. ইউনেস্কো (UNESCO)-কী এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর ইউনেস্কো হল জাতিপুঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের একটি বিশেষ সংস্থা। এর উদ্দেশ্য হল শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযােগিতা করে বিশ্বশান্তি স্থাপনে সাহায্য করা।
৫৯. আটলান্টিক সনদে স্বাক্ষর করেন কে এবং কত সালে?
উত্তর মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল, ১৯৪১ সালের ১৪ই আগস্ট।
৬০. খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর ১৯৪৫ সালের ১৬ই অক্টোবর।
৬১. FAO-এর ২টি উদ্দেশ্য উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. বিশ্বের সমস্ত দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানােন্নয়ন করা এবং খ. সকলের পুষ্টিসাধনের ব্যবস্থা করা।
৬২. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কখন গঠিত হয় ? 
উত্তর ১৯১৯ সালে।
৬৩. ILO-র ২টি কাজের উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের পূর্ণ কর্ম- সংস্থানের ব্যবস্থা করা, খ. প্রত্যেক শ্রমিককে জীবনধারণের উপযােগী বেতন প্রদান।
৬৪. UNESCO কখন গঠিত হয়?
উত্তর ১৯৪৬ সালের ৪ঠা নভেম্বর।
৬৫. IMF-এর প্রধান ২ কাজের উল্লেখ করাে।
উত্তর ক. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ; খ. সর্বাধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
৬৬. আন্তর্জাতিকবিচারালয়ের একটি দুর্বলতা উল্লেখ করাে। 
উত্তর আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের রায় মেনে চলা কোনাে রাষ্ট্রের কাছেই বাধ্যতামূলক নয়।
৬৭. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন কখন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল এর কাজ শুরু হয়।
৬৮. জাতিপুঞ্জ গঠিত হওয়ার সময় এর সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা কত ছিল?
উত্তর ৫১।

[ আরো দেখুন : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সমস্ত নোটস একসাথে  ] 

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close